preloader
বাংলা বইয়ের e-ভুবন
Menu Categories Search Cart 0
Menu
Cart

Total 0 Items

☹ Your cart is empty

Sub Total:

$0

₹0

বিভাগ
উন্মাদবাহিত: পর্ব ৪
ধারাবাহিক

উন্মাদবাহিত: পর্ব ৪

রাধাবল্লভ চক্রবর্ত্তীর দীর্ঘ কবিতা উন্মাদবাহিত এক গভীর আত্মসমীক্ষার যাত্রা। মৃত্যু, উন্মাদনা, প্রেম, রাজনীতি ও ইতিহাসের জটিল অভিঘাতে কবির চেতনায় জন্ম নেয় ভাঙাচোরা কিন্তু তীব্র ভাষা। শ্মশান, স্বপ্ন, স্মৃতি ও বিদ্রোহের ভেতর দিয়ে মানুষ, দেশ ও অস্তিত্বের প্রশ্ন উঠে আসে। শেষপর্যন্ত কবিতা হয়ে ওঠে বেঁচে থাকার আর্তি ও প্রতিরোধের উন্মত্ত স্বর।
কেতাব-ই-র ব্লগজিনের পাতায় আজ থেকে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হবে এই ৭০ পর্বের দীর্ঘ কবিতাটি। চতুর্থ পর্বে থাকছে আরও সাতটি কবিতা।

২২
যদি ধরি, গুরুতর পাপ হল, তবে তো
তোমার ভূমিকা, যোগদান ছিল কতখানি,
তা জানা জরুরি হয়ে পড়ে। এমন অস্বীকার
ঘরে ঘরে ছড়িয়ে গিয়েছে। যেন এই
সবুজ খেতে, শ্মশানে, হে রমণী, তোমার
হৃদয়ে ছড়িয়ে গিয়েছে চুম্বনের বিষক্রিয়া—
আমি দেখি, নিরুপায় হয়ে, সামান্য অবসর
কাকে কাকে বদলে দিল এতখানি। তবুও
প্রতিপক্ষ নেই—যেহেতু, সকল দলে আমাদের
দূত আছে সিংহভাগই—একটি ঋতুকে
আমরা শঠতার খুব কাছে টেনে, বাকিদের
ছুড়ে ফেলেছি দূরে—এস, যাই, সেইসব
ঋতুগুলিকে বন্ধু করে নিতে। এস, যাই
সেইসব ঋতুগুলিতে পুজো ভুলে, অরণ্যের
গভীরে, ঢালু আমাদের শরীর বিছিয়ে শ্বাস নিতে।

২৩
মরেও মরছে না, অথচ অমর সে তো
নয়। শুধু সে বীর্যহারা আজ। অংশত—
স্পর্শ করার আগে, অনুমতি নাও, সসংকোচে;
অন্যথা, তোমার এই আসা, হবে অবৈধ
অনুপ্রবেশ। রাজনৈতিক হয়ে পড়ছি কি আমি?
কিংবা, সাংকেতিক, ইঙ্গিতবাহী—মেঘলা আকাশ
দেখে, প্রেমিকার দু-চোখ ভেবেছ? ভাবিনি
ভীষণ ইচ্ছে তার, দস্যুতার? ভাবিনি কি
অন্ধকূপ? কতদিন লিখিতভাবে আমাদের সেইসব
উপবাস ভাঙবার স্মৃতি নেই—কতদিন লেখা-লেখা
খেলা ঘটে যায়। অতিঘটন নয়, কেবল
আমারই পুনরাবৃত্তি হয়? যদি বলি, ডেলিরিয়ম্?

কেতাব-ই’র ব্লগজিন বিভাগে লেখা পাঠাতে চান? মেল করুন blogzine.ketabe@gmail.com-এ। মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখুন ‘কেতাব-ই ব্লগজিনের জন্য লেখা’

২৪
দাক্ষিণ্য ও অধিকারে তফাত কোথায়, বুঝে
নিতে গিয়ে, বুঝি আমি, আমার অজান্তে
হয়ে গেছি সাবালক। এখন অন্ধকারে নিজের
গড়ানো রক্তও জাগায় বোধ: ‘আমি নিরাপদ।’

জমির খন্ডাংশে ঘর—ঘরের ভিতর যত
মায়া! তবু কতখানি, জানি না, নিশ্চিন্ত
তাদের সহবাস! বিসুখ বলতে পারি; কিংবা
বলতে পারি ভিন্ন কোনো সজলতা। আমি

তবু দায়ী হই—কালিমা মেখেছি হাতে,
শরীরে, ইতিহাসে। যে মুখ দেখছ তুমি,
তারও আড়ালে আছে অনেক দন্তবিকশিত
মুখ, যা অতি তীব্রভাবে চালনা করে।

সুখের কাহিনি ভেবে যা-কিছু আরম্ভ করেছিলাম
একদা, সেসবই আমার শেষ, ধ্বংস দেখে যাবে!

২৫
মা, তোমায় বলি শোনো, তুমি স্বউদ্যোগে
আমাকে উপবাসে রাখো—খাইয়ে-পরিয়ে শুধু
সুঠাম করেছ শরীরে; অধিক কার্যকরী তার
বেশি হয়নি কিছুই। তুমি কি জানো? কী
পরিত্যক্ত এ জীবন! কতদিন প্রেম ও ঈশ্বরী
আমায় ছেড়ে চলে গেছে—এই পথ
মাড়িয়ে যেতে গেলে বড়ো ভয় করে,
শ্বাসরুদ্ধ করা কান্না উঠে আসে দমকে—
কিন্তু, আমায় যেতে হয়—যেহেতু আমার
সন্তান সুনিশ্চিত ভবিষ্যৎ খুঁজে নিতে গিয়ে
ফেরেনি এখনও আমার কাছে—যেহেতু
স্বপ্নে সে প্রতিদিন ভয় পেয়ে খুব,
আমাকে, ব্যর্থ আমাকে ‘বাবা’ বলে ডাকে!

২৬
সর্বস্ব খুইয়ে এই বিকল্প—ধরেছ ভেক?
সুনির্দিষ্ট পরিচয়, সংস্থান, মৃত্যু, বলাৎকার নেই!
ফলিডল প্রতিরাতে, এবং সকাল হলে বেরিয়ে
পড়া, জীবনের সন্ধানে—আগুন দেখলে কী
হর্ষ জাগে! ঝাঁপ দেয়—অথচ পোড়ে
না সে—কেবল পোশাক পোড়ে—বিকার
ঘটে তার... কখনও সে প্রস্তুত করে
দেয় অন্যের চিতা, কখনও সে রুদালির
অভিনয় করে—যখন মুগ্ধ হয় জনতার
ভিড়, সে সরে যায়... যায়... সরে
যেতে থাকে। কখনও দুঃখ তাকে ছোঁয়নি,
এবং, সে দুঃখ পেতেও জানে না—
তবু সে কেন আজ দুয়ারে দুয়ারে ঘুরে
হাসি বিলি করে? তবে সে কেন এখন
চিতার আগুনে শুয়ে বিশ্রাম নিতে চায়?

২৭
এই কি পদ্মদীঘি সেই? যেখানে ভাসান
নয়, প্রায়শই জলডুবি ঘটে—গন্ধর্ব গেয়েছে
গান, বিরহের, শোনো—জেগে ওঠে গতজন্ম,
উদ্‌বাস্তু কিশোরী প্রেমিকা! ঈশ্বর অভিযোগ
শুনে শুনে শুনে পাথরের মতো ওই জমে
গেছে দ্যাখো—যে-মুহূর্তে মনে হয়, সকল
প্রার্থনা শেষ, সে-মুহূর্ত হঠাৎ অনর্গল কথার
স্রোতে ভরে যায়। তাই, সুখ কাকে বলে,
আমি বুঝে নিতে চাই—হে আমার
প্রতিভূ, পালক-পিতা—তোমার চারণ কেন
হিংসার চেয়ে এত ভালো, তা আমায়
বলো আজ—ভালো নয় এই স্থান,
নিয়ে চলো আমাকেও, অন্য কোথাও সাথে
করে। এখানে মানুষ খুব একাকী, তবু
কী চতুর! একে অন্যের মূল্য নির্ধারণ করে...

২৮
তোমার যে নাচ, তা তো উন্মাদিনীর—
অতি সুখ না কি দুঃখের, ভেবে বলো
যে চিৎকারে আজ চারিদিক খান‌খান,
তা কোনো উৎকৃষ্ট ভাষা নয়, বরং রূপক
দিয়ে যাবে নিরন্তর। যতটুকু বলি, তারও
চেয়ে বেশি ভেবে, পাই এই ফলাফল: সবার
ভিতর দ্বেষ জাগরিত, আর, সবার ভিতর
এক আপন্ন ধ্বংস বর্তমান—সুখ বা
দুঃখের মাঝে, তুমিও সমানভাবে জেগে থাকো।
তোমাকে পেয়েছি এত কাছে, মনে-মনে,
তবুও কখনও ঘর বেঁধেছি কি? বাঁধিনি—
এই নীরবতা আমাকে বাঁচার ভাষা দেবে;
তোমাকে মুদ্রা দেবে নাচের—হে উন্মাদিনী...


কেতাব-ই’র মুদ্রিত বই,ই-বই এবং ব্লগজিন বিভাগের লেখালিখির নিয়মিত খোঁজখবর পেতে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন


এই ব্লগজিনে প্রকাশিত সমস্ত লেখার বক্তব্য লেখকের নিজস্ব।

লেখক

পশ্চিম মেদিনীপুরের বাসিন্দা। কবিতা লেখার ইচ্ছে রয়েছে। ‘প্রতিভাহীন পাথর’ নামে একটি প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ রয়েছে। প্রকাশিতব্য কাব্যগ্রন্থের নাম ‘মানচিত্রে ও অজান্তে’।

অন্যান্য লেখা