preloader
বাংলা বইয়ের e-ভুবন
Menu Categories Search Cart 0
Menu
Cart

Total 0 Items

☹ Your cart is empty

Sub Total:

$0

₹0

বিভাগ
উন্মাদবাহিত: পর্ব ২
ধারাবাহিক

উন্মাদবাহিত: পর্ব ২

রাধাবল্লভ চক্রবর্ত্তীর দীর্ঘ কবিতা উন্মাদবাহিত এক গভীর আত্মসমীক্ষার যাত্রা। মৃত্যু, উন্মাদনা, প্রেম, রাজনীতি ও ইতিহাসের জটিল অভিঘাতে কবির চেতনায় জন্ম নেয় ভাঙাচোরা কিন্তু তীব্র ভাষা। শ্মশান, স্বপ্ন, স্মৃতি ও বিদ্রোহের ভেতর দিয়ে মানুষ, দেশ ও অস্তিত্বের প্রশ্ন উঠে আসে। শেষপর্যন্ত কবিতা হয়ে ওঠে বেঁচে থাকার আর্তি ও প্রতিরোধের উন্মত্ত স্বর।
কেতাব-ই-র ব্লগজিনের পাতায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হচ্ছে এই ৭০ পর্বের দীর্ঘ কবিতাটি। আজ দ্বিতীয় পর্বে থাকছে আরও সাতটি কবিতা।


তোমার নগ্নপদ, পরিত্রাণ চেয়ে চলে গেছে
অনেকটা দূর... তোমার বন্ধ্যা তালু আজও
কিছু তামাটে রেখার কিলবিল করা, শুয়ে
থাকা সহ্য করে। উপদ্রব এসেছিল আমারও
কাছে, এই তো সেদিন—তুমি বন্যা
দ্যাখো; তোমায় দেখাব আমি ত্রাণ বিলি
করা... আর কতদিন বাকি আছে গুনে-গুনে
এই জন্মকাল শেষ হতে? আর কতদিন
বাকি মৃত্যুর গন্ধাধিবাস, মহুরতে? জ্ঞানদা, জেনো
তো তুমি—জেনে হয়ে উঠোনাকো ক্ষেমংকরী!
মুহূর্ত কতখানি লঘু না কি গুরু, তা
জানতে চেয়ে, নিজের অজান্তে দ্বিধা টেনে
এনো না। যা দেয়, তা নাও তুমি;
আলিঙ্গন করো, চুম্বন দাও—তোমার পরিত্রাণে
শিউরে উঠি আমি—দেখি: স্মৃতির রক্তপাত
উপভোগ করছ তুমি; তারই মাঝে পা ডুবিয়ে রেখে...


আমার ঈশ্বর খেলা করে আসমুদ্র জুড়ে
তোমার ঈশ্বর আমাকে লোলুপ করে দেয়
ইগলুর নীচে এই ফুটিফাটা চামড়া, শরীর;
তারও নিচে টের পাই কবোষ্ণ রক্তপ্রবাহ—
সেই থেকে আদিম হলাম; সেই থেকে
নরমাংসভোজী—ঠুনকো পাথরও তো নয়;
দাঁতে দাঁত ঘষে ক্রোধে আগুন জ্বালাই—
জ্বর মাত করে দিল, নাহলে কি আমি
হতাম দাসানুদাস নিমগ্নতার? ‘অর্থ খুঁজে নাও’,
যে শালা বলে, তার মুখে নুড়ো জ্বালি!
পায়ে দিই ফুল! আত্মবিরোধী আমি
এমন হয়েছি—-‘ভালোবাসি’ বলা সোজা,
ভালোবাসা সোজা নয়; বরং বিপদসংকুল!

কেতাব-ই’র ব্লগজিন বিভাগে লেখা পাঠাতে চান? মেল করুন blogzine.ketabe@gmail.com-এ। মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখুন ‘কেতাব-ই ব্লগজিনের জন্য লেখা’

১০
প্রতিটি ভাবনাকে বাস্তবতা এসে কষিয়ে থাপ্পড়
মারে! তাই, ভেবেছি যতবার, অবসর-দিনগুলি
কেটে যাবে সুখে, সম্ভোগে, অকস্মাৎ বন্ধুর
শবভার বহনের দায় এসে চাপে কাঁধে।

আমি দাঁড়িয়ে থাকি। দেহ পুড়ে যায়—
বস্তুত এটাই নিয়ম এখানে যেহেতু! অভ্যাগতদের
স্থান-কাল-পাত্র ইত্যাদি বোধ কি
গেছে? উল্লাস করে বলে: ‘দহন এখন
উৎসব!’—ওরা বেঁচে আছে যেন রূপকথার
দূর দেশে—ওরা ভাবে: জীবন তো

ম্যাজিকের মতো... তাই, জল নয়, অপূর্ব
পিপাসায় পান করে, ক্ষরিত অমৃত।
শান্ত হওয়ার অভিনয় করে যাই—এবং,
ব্যর্থ হই পুনঃপুন—কোথাও দেখি না
আমি শ্রোতাসাধারণ। শুধুই দেখি যে, যে দিন-রাত
আমি কাটিয়ে দিতে চেয়েছি সুখে, সম্ভোগে,
কেউ যেন তখনই এসে, প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে,
আমার কাঁধে দিয়েছে বন্ধুর শবভার, অকস্মাৎ!

১১
উদ্‌বেগে, উপবাসে বেঁচে আছে এয়োস্ত্রীরা?
শঙ্খের ধ্বনি আমি অনেক শুনেছি—আজ
শুনি, দেবী বলছেন: ‘বেঁচে থাকো ধনধান্য,
কলরব নিয়ে; আর থাক স্বামী-পুত্র,
মান-অভিমান... তোমার নিতান্ত নিদারুণ দিনগুলি
যাক জন্মের মতো, এ ত্রিভুবন ছেড়ে—
সিংহাসনে বসো—আলো হোক, ভালো হোক;
এটুকু সময় দাবি করে। এটুকু আমিও।’

১২
মধ্যমেধার কিছু স্বরান্ত দল এসে জোটে
জোট গড়ে ওঠে আর জোট ভেঙে
যায়—দেবতা আমার, তুমি কাঁধে করে
আকাশকে কি নিয়ে যাবে, আমাকে উপেক্ষা
করে, দিতে বন্দিনীকে উপহার? কিছু কি
মানে হল কি না আমাকে বলো—ব্যস্তসমস্ত
দিনে একা লাগে—উপদ্রব, যা-কিছু
বিগত, মনে পড়ে। ধীর-ধৈর্য্যবান হতে
গিয়ে দেখি, নিজের মুণ্ডটিও খসে পড়েছে!
তার পাশে ঝিনুকের খনি—তার পাশে
প্রজন্ম, ব্যবধান, বিভীষিকা: অব্যক্ত। সবই
শান্ত হয়, নিজের নিয়মে। তুমি বৃদ্ধ
হে, দর্শক শুধু—কিছুই বলার নেই,
কিছুই করার নেই, কিছুই দেখার নেই; ইত্যাদি;
অথবা, যা করো বা করতে চাও খুব
আত্মনিষ্ঠ হয়ে, তা করতে দেয় না, তা
করতে পারো না এই চেড়ির শাসনে—
কী বলতে চেয়েছি, বুঝে গেলে ভালো;
কথার আড়ালে কথা: প্রধানত শ্লেষ—
যদি বুঝে গিয়ে থাকো, তাহলে তো বেশ—
বিলম্ব ভালো নয় মোটে। সময়ের এখন-তখন—
এস, পরপারে পৌঁছে দিই সকলে মিলে;
তার আগে সাজাও দ্রুত ফুল-চন্দনে,
এত এত মরদেহ, আর প্রিয় দেশ...

১৩
প্রতিটি প্রিয় ঋতু আত্মঘাতী। সকল আত্মীয়
দারিদ্র্যতায়। নিজের দু-কান কেটে বধির সেজেছ;
রাজনৈতিক হাসি ঠোঁটের ডগায় চেপে রেখে,
আপত্তি ভেঙে দাও, এবং পরিখা—উপলব্ধি
করি: যে-কোনো মুহূর্তের সম্পর্ককেও, তুমি নাম
দিতে চাও; হয়তো যা নিশ্চয় করে
ফেলে ক্ষয়—মাঝে-মাঝে মনে হয়,
প্রক্ষালন মানে নতুন আমি-র জেগে ওঠা।
কখনও সত্যি হয়; কখনও তা-ও নয়;
মার খেতে ভালো লাগে? তাই মার খাও?
প্রতিবাদ রাত্রির মতো, অন্ধকারে ডুবে যায়।
তুমি আছ, ঘুমন্ত; তোমার মাথার ভিতর
ছড়ানো হাজার স্বপ্ন, অসতর্কতা, কোজাগর—
কী নিশ্চুপ, কী নিঃসাড় পড়ে আছ
এমনতর: বুকের পাথর নেমে গেলে,
স্বাভাবিকভাবে এসে অতি, অধিগ্রহণ করে নেবে
সেই স্থান, শূন্যতা, স্বভাবত অন্য পাথর...

১৪
এক অন্ধকারে তোমাকে হারিয়ে, আরেক অন্ধকারে
খুঁড়ে, পেতে চাই। এখন শ্মশানে আমি,
নিশাচর হয়ে। আমি দেখুন প্রভু, হে মহেশ্বর।
আমাকে উন্মাদ বানিয়েছে ওরা—ওরা মানে
ওরাই: যারা জ্বলন্ত অঙ্গারে হাঁটিয়েছে নগ্নপদে;
বন্দর থেকে চুরি করেছে জাহাজ। বলেছে:
‘অর্থহীন এসব কিছুই—প্রমাণ রয়েছে;
প্রলাপ রয়েছে, কোনোখানে কোনো নিপুণতা নেই।’
দরজা খুলে ওরা যাওয়া-আসা করে। অথচ,
দরজা নয়, অন্ধকার এক গড়েছে আড়াল।
তবুও আমাদের মনে থাকে ঢক্কানিনাদ। তবুও
মনে থাকে উজ্জ্বল নবমীর চাঁদ। অসুস্থ
যদি হও, তবে, দিতে হবে প্রমাণ তারও।
বিকেন্দ্রীভূত হওয়া সময়ের মাঝে, নিজেরই নিজেকে
চেনা বড়ো দুষ্কর! বেকারত্ব আছে, তাই,
স্থির বসে আছি। গন্তব্য থেকে দূরে—এবং একা।


কেতাব-ই’র মুদ্রিত বই,ই-বই এবং ব্লগজিন বিভাগের লেখালিখির নিয়মিত খোঁজখবর পেতে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন


এই ব্লগজিনে প্রকাশিত সমস্ত লেখার বক্তব্য লেখকের নিজস্ব।

লেখক

পশ্চিম মেদিনীপুরের বাসিন্দা। কবিতা লেখার ইচ্ছে রয়েছে। ‘প্রতিভাহীন পাথর’ নামে একটি প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ রয়েছে। প্রকাশিতব্য কাব্যগ্রন্থের নাম ‘মানচিত্রে ও অজান্তে’।

অন্যান্য লেখা