preloader
বাংলা বইয়ের e-ভুবন
Menu Categories Search Cart 0
Menu
Cart

Total 0 Items

☹ Your cart is empty

Sub Total:

$0

₹0

বিভাগ
পাঁকে গড়াগড়ি খাওয়ার দিন
কবিতা

পাঁকে গড়াগড়ি খাওয়ার দিন

পাঁক, দারিদ্র্য, শরীর, আকাঙ্ক্ষা ও অনিশ্চিত জীবনের ভেতর দিয়ে এই কবিতাগুচ্ছ মানুষের ভাঙাচোরা বাস্তবকে স্পর্শ করে। তীক্ষ্ণ চিত্রকল্প, সামাজিক ব্যঞ্জনা ও অন্তর্গত বিষণ্ণতায় নির্মিত এক গভীর সমকালীন কাব্যভাষায় প্রকাশিত হয় মানুষের অসহায়তা। ‘জেলার সাহিত্য’ প্রকল্পে এই মাসের নির্বাচিত জেলাগুলি হল বাঁকুড়া, বীরভূম, পুরুলিয়া। আজ প্রকাশিত হল পুরুলিয়ার কবি শক্তি কুম্ভকারের কবিতা।

পাঁকে গড়াগড়ি খাওয়ার দিন
পাঁকে গড়াগড়ি খাওয়ার দিন এসেছে,
চোরা পাঁকে ডুবে যাওয়ার ভয়ও রয়েছে বলে
মাইকে তুমি বেঁচে থাকার উপায় বিষয়ে ঘোষণা শোনাও;
এক পা দু-পা এগোলেই পা ফেঁসে যাচ্ছে,
পড়ে গিয়ে গড়াগড়ি খেয়ে এগোতে হবে তবু
খেলার ধারাভাষ্য তোমার মুখ থেকে শুনে আশা জাগে,
আর কিছুটা এগোলেই হয়তো পাঁকের দিন শেষ
এই মর্মে ঢালাই রাস্তাটিও তৈরি হয়ে আছে
সমস্ত ইন্দ্রিয় দিয়ে তাকে আমি খুঁজে যাই
কঠিন মাটির অবলম্বন হাতড়াই অন্ধকারে;
তোমার ধারাভাষ্যে কাড়ার লড়াই জমে উঠেছে আসরে
লড়াই শেষ হওয়ার আগেই দৃশ্য থেকে মন সরে যায়
ধৈর্যের অভাবে অসমাপ্ত আসর থেকে
পাঁকে এসে গড়াগড়ি খাই—আমি সেই রসিক দর্শক।

কেতাব-ই’র ব্লগজিন বিভাগে লেখা পাঠাতে চান? মেল করুন blogzine.ketabe@gmail.com-এ। মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখুন ‘কেতাব-ই ব্লগজিনের জন্য লেখা’

আমাদের কোনো ঘর নেই
ন্যাড়া পাহাড়ের মাথায় দাঁড়িয়ে নিচে তাকালে
দেখা যায় পাথরের খাঁজে জল জমে আছে;
এই খেজুর, তাল গাছের সাথে বেড়ে ওঠা ঝোপঝাড়ে,
মাথায় রোদ নিয়ে আমরা সংগমের আড়াল খুঁজি;
বুঝতে পারি দুর্যোগের পূর্বাভাস পেয়েছে পিঁপড়েরা,
পাথরের উঁচুতে দাঁড়িয়ে আমরা দূর পর্যন্ত দেখি
মানুষের আনাগোনা নেই এইদিকে, গ্রাম নেই;
পাথর ভেঙে ভেঙে পড়ে আছে আপন মনেই
পশ্চিমে মেঘেরা উঁকি দিয়েছে অনেক দূরে,
এই খেজুর তালের বনে আমাদের কোনো ঘর নেই,
ট্রেন বাসের রাস্তা যেখানে ছড়িয়েছে বহুদূর
সেই শহরে, গঞ্জে হাঁটলেও রাস্তা হাত ছেড়ে চলে যায়।

আখের চাষ করেছি
আখের চাষ করেছি আর বড়ো বড়ো হাঁড়ি কেনা আছে ঘরে। আখের গুড় সেখানে জমিয়ে ডুব দেব গুড়ের মিষ্টতায়। চিনির পুতুল হতে চাই। মিছরির ছুরি হয়ে আপনার মুখের ভেতর আলতো আঘাত এঁকে দেব। আপনি ঈশ্বরী হয়ে হাওড়া স্টেশনে সেদিন আমার পাশে বসলেন। আপনার জিম্মায় ব্যাগ রেখে আমি পেচ্ছাপ করে এলাম। আপনি কানে ইয়ারবাড গুঁজে বিড়ালের ভিডিয়ো দেখে মুচকি মুচকি হাসছিলেন। আমি আপনাকে স্পর্শ করতে পারিনি। আমাদের মাঝে অগাধ দুরত্ব যে রয়েছে সেদিন সেটা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল। তবু মিষ্টির রসে পুরোপুরি ডুবে খাজা হয়ে আপনার পাদপদ্মে প্রসাদ হতে পারিনি। আমি আখের চাষ করি আর গুড় রাখার মাটির জালা কিনে রেখেছি মাত্র। আমার মিষ্টতা নিয়ে আপনি সন্দিহান। আমি চাষির ছেলে প্রভু, মোরব্বা হওয়ার চেষ্টা করে যাই মাত্র।

প্রাচীন সাইকেল
রাস্তা তৈরির কাজ চলছে তাই দাঁড়াবার জায়গা নেই,
নড়বড়ে সাইকেল মাটির টানে পড়ে গিয়ে
চারদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ল নাট বল্টু;
আমি তো রাস্তার পাশে সাইকেল দাঁড় করিয়ে
পুকুরে স্নান করতে যাওয়ার কথা ভেবেছিলাম,
অভিকর্ষের কারবারে তুমি এখন বিশ্বাস রাখতে পারো না
তাই আমার পিছু পিছু এসেছিলে পুকুর ঘাটে;
খুলে যাওয়া টায়ার, হ্যান্ডেল গুছিয়ে-বাগিয়ে
তুমি যখন সারাইয়ের দোকানে নিয়ে গেলে
আমাদের এই অনেক প্রাচীন সাইকেল দেখে
মিস্ত্রিও বুঝেছিল এই আমাদের একমাত্র সম্বল;
নিজেদের ভাঙাচোরা শরীর ঠেলতে ঠেলতে সেদিন
দারিদ্র্য-সীমার অনেক কাছ ঘেঁষে আমরা বাড়ি ফিরলাম।

পাঞ্জাবি পরে বসেছি
পাঞ্জাবি পরে বসেছি সবাই সভাঘরে
সাজগোজের ছবি তোলা হল একসাথে;
মানুষেরা চলে গেলে শুধু পোশাক চেয়ারে বসে থাকে,
টয়লেটে পড়ে থাকা চ্যাটচ্যাটে গামছা
পা দিয়ে সরিয়ে দেখে চিনলাম
আমাদের বীর্য ওই গামছায় মোছা হয়;
ঈপ্সিতা চা করছে পাশের রান্নাঘরে
আমি অনুমতি চাইলাম ঘরে ঢোকার;
পাঞ্জাবি কেন পরেছি ভাবতেই মনে পড়ল
পোশাক চেয়ারে রেখে যারা চলে গেল
চায়ের কাপ থেকে নাম কাটতে হবে তাদের;
এই অনুষ্ঠানে আমরা সবাই পাঞ্জাবি অথবা শাড়ি,
এটুকু সংকল্প লিখে রাখার কারণে
আমি আর ঈপ্সিতা বসে থাকলাম আরও কিছুক্ষণ।


কেতাব-ই’র মুদ্রিত বই,ই-বই এবং ব্লগজিন বিভাগের লেখালিখির নিয়মিত খোঁজখবর পেতে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন


এই ব্লগজিনে প্রকাশিত সমস্ত লেখার বক্তব্য লেখকের নিজস্ব।

লেখক

জন্ম ১৯৮৫ সালে। ২০০৬ থেকে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় লেখা শুরু। প্রকাশিত কবিতার বই ব্রাউন রঙের চাঁদ (প্রকাশকাল-২০১৫, প্রকাশক-নাটমন্দির), দিগন্ত জুড়ে আমি নির্মোহ হই (প্রকাশকাল-নভেম্বর ২০১৮, প্রকাশক-নাটমন্দির), পূর্বজন্ম এটুকুই মনে আছে (প্রকাশকাল-নভেম্বর ২০২১, প্রকাশক-নাটমন্দির)।

অন্যান্য লেখা