আরব বসন্ত—এই সুন্দর নামটির আড়ালে কিন্তু কোনো দখিনা বাতাস, কোকিলের কুহুতান নেই, বরং তার বদলে রয়েছে এক রক্তক্ষয়ী ইতিহাস। উত্তর আফ্রিকার তিউনিশিয়ার এক সামান্য সবজিওলা বুয়াজিজির আত্মাহুতির দ্বারা যে বিপ্লবের আগুন জ্বলে উঠেছিল, তা হু-হু করে ছড়িয়ে পড়েছিল মিশর, লিবিয়া, সিরিয়া, ইয়েমেনের মতো দেশগুলোয়। দেশের দীর্ঘদিনের একনায়কতন্ত্রের অবসান ঘটাতে সশস্ত্র বিপ্লবের পথ বেছে নেন সেইসব দেশের জনগণ। লিবিয়ার অধীশ্বর মুয়ম্মর আল গদ্দাফি ছিলেন এমনই এক স্বৈরাচারী দেশনায়ক। প্রায় চার দশকের অধিক সময়কাল ধরে লিবিয়াকে শাসন করা এই রাষ্ট্রনায়কের ব্যক্তিগত জীবনটিও ছিল অতি বিচিত্র। শৌখিন, বিলাসী, খামখেয়ালি এই দেশপ্রধান শেষপর্যন্ত মরুভূমির কাছে একটি শুকনো নালার ভিতরে আশ্রয় নিয়েছিলেন নিজের প্রাণ বাঁচানোর জন্য। তবু শেষরক্ষা হয়নি, তাঁকে নৃশংসভাবে হত্যা করে তাঁরই দেশের উন্মত্ত জনগণ। কেন তাঁর এমন পরিণতি হল? কীভাবে তৈরি হয়েছিল এই বিপুল গণঅভ্যুত্থান? সাংবাদিক অ্যানি মিসাকির চোখ দিয়ে পাঠক দেখতে পাবেন, জানতে পারবেন এক অজানা অন্ধকার ইতিহাস। এই সুদীর্ঘ উপন্যাস মূলত সত্য ঘটনা আশ্রিত। কাহিনির স্বার্থে চরিত্রদের নাম বদল হয়েছে। বাস্তবের সঙ্গে এসেছে কল্পনার আশ্রয়। যুদ্ধ, প্রেম, বিচ্ছেদ, স্বপ্ন, ক্রুরতা, বিশ্বাসঘাতকতা এবং আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক চক্রান্তের এক দলিল এই উপন্যাস।
বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া