অভিমানহীন আত্মসমর্পণ, সম্পর্কের ভাঙন, গোপন ভালোবাসা আর অনুপস্থিতির দীর্ঘ শূন্যতা—এই কবিতাগুলো মানুষের অন্তর্জীবনের নীরব আর্তি তুলে ধরে। সহজ ভাষায় নির্মাণ করে গভীর অনুভবের স্পর্শে নির্মিত এক অন্তর্মুখী কাব্যজগৎ। ‘জেলার সাহিত্য’ প্রকল্পে এই মাসের নির্বাচিত জেলাগুলি হল বাঁকুড়া, বীরভূম, পুরুলিয়া। আজ প্রকাশিত হল পুরুলিয়ার কবি সন্দীপন মুখার্জীর কবিতা।
ধরন
প্রত্যেকেরই নিজস্ব একটা ধরন আছে
আমার ধরন শুকনো পাতার মতো—
অভিযোগ নেই কোনো
ফুঁ দিলে উড়ে যাব
জলে ফেলে দাও যদি
ভেসে যাব স্রোতকে অনুকূল করে
যদি মাড়িয়েই যেতে চাও
কাঁটা হয়ে বিঁধব না,
রুখে দাঁড়াব না পথ।
দিনশেষে শুধু একটু আগুন দিয়ো মুখে
পুড়ে যেতে দিয়ো নিজের মতো করে…
সিদ্ধার্থ
এসো হে! চেখে দেখো কেমন সুস্বাদু অভিজ্ঞতাহীন জীবন। নিজের কাছে আমাকে কোনো জবাবদিহি করতে হয় না। নিজের কাছে আমি প্রশ্নহীন নিরুত্তর। কোরা কাগজ। কোনো আঁকিবুঁকি নেই। জানলা দিয়ে ওই যে আলো ঢুকে গড়াগড়ি মেঝেতে। পাগল আলো। ভূমিকাহীন হৃদয়ে এঁকে দেওয়া বিস্ময়চিহ্ন। আজন্ম দাগ। আমি নিজেই বেছে নিয়েছি এই পথ। আত্মহননের। এতে তোমার কোনো দোষ নেই। কারও কোনো দোষ নেই…
কেতাব-ই’র ব্লগজিন বিভাগে লেখা পাঠাতে চান? মেল করুন blogzine.ketabe@gmail.com-এ। মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখুন ‘কেতাব-ই ব্লগজিনের জন্য লেখা’।
সম্পর্ক
১.
আর সব কিছুর মতো ভালোবাসারও মৃত্যু আছে। যে-কোনো ভাঙনের হিসাব আমরা করি সময়ের সাপেক্ষে। আসলে সময় নিজেই ভাঙন। ভাঙনের হিসেব কষে প্রত্যেকেই কিছু-না-কিছু ধরে রাখতে চায়। এমনকি যে সন্ন্যাসী আজ গৃহত্যাগী স্বেচ্ছায় তার হাতেও একটা দীর্ঘ লাঠি।
২.
মানুষ একা বেঁচে থাকতে পারে না। প্রাণ আসলে সম্পর্কের ডাকনাম। বেঁচে থাকা—সেই সম্পর্কের খোঁজ যার হাত ধরে পার হয়ে যাবে বাকিটা।
৩.
শ্যামলীদি তোমার প্রতি আমার গোপন ভালোলাগা ছিল। একথা তোমাকে জানানো হয়নি কখনও।
লোক জানাজানির ভয়ে তাই এতদিন
গোপনেই ভালোবেসে গেছি তোমাকে।
আড়ালেই ঢেলে গেছি যাবতীয় সোহাগ।
তুমিও কি বুঝতে পারতে শ্যামলীদি?
সেদিন যখন ঝড় উঠল তোমার বুকে
কাঁধ থেকে খসে পড়ল
দায়িত্বশীল গৃহস্থের বেনারসি পাড়
তোমার বুকের ফাটল
যেন রুখা জমি
এতদিন রেখে দিয়েছিলে গোপনে
হঠাৎ প্রকাশ্যে আসতেই
পবিত্র বন্ধন তুচ্ছ করে
মেলে দিলে উন্মাদ দুয়ার...
আর তুমুল বর্ষায়
যাবতীয় সীমানা ছিন্নভিন্ন করে
প্লাবন নামল
দিকে দিকে ছড়িয়ে পড়ল চৌচির বিহ্বলতা
তোমাকেই লিখি
দেখতে দেখতে আরও একটা বছর পার হয়ে গেল। তুমিহীন জীবন অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। আমি ক্রমশ বুঝতে পারি মন খারাপ করতে গেলে চেষ্টার প্রয়োজন পড়ে না আর। রাস্তা দিয়ে সাইকেল চালাতে চালাতে, সিগারেটের ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে, কবিতা পড়তে-লিখতে, রাজনৈতিক মিছিলে, আড্ডার মাঝে... অকস্মাৎ ঢুকে পড়ে দেহে। দেহ সুঠাম বাঁকসম্পন্ন পথ। যে পথ দিয়ে গেছ তুমি তা এখন শূন্যস্থান। শূন্যস্থান ঘর হয়ে গেছে...
কেতাব-ই’র মুদ্রিত বই,ই-বই এবং ব্লগজিন বিভাগের লেখালিখির নিয়মিত খোঁজখবর পেতে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন।
এই ব্লগজিনে প্রকাশিত সমস্ত লেখার বক্তব্য লেখকের নিজস্ব।