preloader
বাংলা বইয়ের e-ভুবন
Menu Categories Search Cart 0
Menu
Cart

Total 0 Items

☹ Your cart is empty

Sub Total:

$0

₹0

বিভাগ
প্রমিথিউসের নিভে যাওয়া আগুন ও নৈঃশব্দ্যের ইশতেহার: ‘হয়তো Coca-cola হয়তো মার্ক্স’-এর কাঠগড়ায় আমরা
রিভিউ

প্রমিথিউসের নিভে যাওয়া আগুন ও নৈঃশব্দ্যের ইশতেহার: ‘হয়তো Coca-cola হয়তো মার্ক্স’-এর কাঠগড়ায় আমরা

প্রমিথিউসের আগুন থেকে কর্পোরেট ক্যাকোফনি—10th Planet প্রযোজিত নির্বাক নাটক ‘হয়তো Coca-cola হয়তো মার্ক্স’-এ উন্মোচিত হয় সভ্যতার এক নির্মম বিবর্তন। এই নাটকের বিশ্লেষণে পুঁজিবাদ, সাম্রাজ্যবাদ, ফ্যাসিবাদ ও বামপন্থার সংকট এক তীক্ষ্ণ নৈঃশব্দ্যে ধরা পড়ে। দর্শক এখানে কেবল সাক্ষী নয়, নিজেরই আদর্শগত ভাঙনের কাঠগড়ায় দাঁড়ানো এক অভিযুক্ত সত্তা। লিখলেন সায়ন দত্ত।

ককেশাসের হিমার্ত, নিঃসঙ্গ চূড়ায় অনন্তকালের শৃঙ্খলে বাঁধা পড়ে আছেন ইতিহাসের প্রথম ‘বিদ্রোহী’—টাইটান প্রমিথিউস। তাঁর অপরাধ কোনো নিছক চুরি ছিল না, তা ছিল এক ঐশ্বরিক আধিপত্যের বিরুদ্ধে মানুষের প্রথম জ্ঞানতাত্ত্বিক স্পর্ধা। অলিম্পাসের দেবতাদের কুক্ষিগত করে রাখা আগুন তিনি ছিনিয়ে এনে তুলে দিয়েছিলেন মর্তের শীতে কাঁপতে থাকা এক অসহায় প্রজাতির হাতে। সেই আগুন কেবল ভৌতিক উত্তাপ ছিল না। বরং তা ছিল সভ্যতার প্রথম অঙ্কুরোদগম, শোষিতের প্রথম হাতিয়ার এবং চেতনার প্রথম ইশতেহার। জিউসের স্বৈরতান্ত্রিক অভিশাপে প্রতিদিন এক রক্তলোলুপ ঈগল এসে তাঁর যকৃৎ বিদীর্ণ করে যায়, আর প্রতিদিন তা পুনর্জন্ম নেয় এক চক্রাকার যন্ত্রণার আবর্তে। মানবজাতির প্রতি এক প্রগাঢ়, নিঃশর্ত ভালোবাসার যে আদিমতম এবং শ্রেষ্ঠতম মূল্য প্রমিথিউস চুকিয়েছিলেন, ইতিহাসের এক গোলমেলে ক্রান্তিলগ্নে দাঁড়িয়ে আজ এক অনিবার্য প্রশ্ন আমাদের বিদ্ধ করে—সেই প্রমিথিউসের আগুন কালের বিবর্তনে আজ ঠিক কোন চোরাবালিতে এসে পথ হারিয়েছে? তা কি আজও মানুষের মুক্তির পথ দেখায়, না কি কর্পোরেট পুঁজির দেখানো আলোয় তা আজ কেবলই এক ছাইচাপা দীর্ঘশ্বাস?

10th প্ল্যানেট প্রযোজিত এবং শরণ্য দে নির্দেশিত ৫০ মিনিটের নির্বাক নাট্য “হয়তো Coca-cola হয়তো মার্ক্স”-এর দর্শকাসনে বসে অবচেতনে যেন সেই প্রমিথিউসীয় আগুনের বিবর্তনের এক নির্মম ইতিহাসই চোখের সামনে মূর্ত হয়ে ওঠে। নাটকের শুরুতেই উন্মোচিত হয় আদিম পৃথিবীর এক রুক্ষ, নগ্ন ক্যানভাস। সেখানে কোনো শব্দের প্রগল্‌ভতা নেই, আছে কেবল প্রাগৈতিহাসিক এক নিরেট নৈঃশব্দ্য। বিবর্তনের যাত্রাপথে এক আদিম মানব আবিষ্কার করেছে এক আশ্চর্য প্রস্তরখণ্ড। তার অক্লান্ত, ছন্দোবদ্ধ সংঘাতে… পাথরে পাথর ঠুকে ঠুকে একসময় জন্ম নিচ্ছে সভ্যতার সেই বহু প্রতীক্ষিত স্ফুলিঙ্গ। প্রথমবার নিজস্ব সৃষ্টি, তথা আগুনকে চাক্ষুষ করার সেই আদিমতম বিস্ময়, তাকে ছুঁয়ে দেখার এক দুর্নিবার, প্রায় আধিভৌতিক আকাঙ্ক্ষা এবং নবজাত সেই আগুনের লেলিহান উত্তাপে ও মহিমায় উদ্ভাসিত হয়ে ওঠা মানবের প্রথম সচেতন মুখমণ্ডল। নির্দেশক অত্যন্ত পরিমিত ও সুচারু শরীরী ভাষায় মানবসভ্যতার এই আঁতুড়ঘরটিকে এক মহাকাব্যিক দৃশ্যকাব্যের মতো আমাদের সামনে খোদাই করে দেন।

কিন্তু কালস্রোত তো কোনো স্থির সরোবর নয়, সে এক নির্মম, আগ্রাসী আবর্ত। প্রমিথিউসের ছিনিয়ে আনা সেই আগুন সভ্যতার পেল্লায় চুল্লি তো জ্বালাল ঠিকই, কিন্তু ইতিহাসের এক ভয়ংকর পরিহাসে খুব সন্তর্পণে সেই চুল্লির ইন্ধন হয়ে উঠল খোদ মানুষেরই হাড়গোড় আর রক্তমাংস। প্রকৃতির বিরুদ্ধে আদিম মানুষের সেই যে অকৃত্রিম যৌথ বাঁচার লড়াই, তা ক্রমশ খণ্ডিত হয়ে জন্ম দিল এক শ্রেণিবিভাজনের। সভ্যতার এই রথচক্র যত এগিয়েছে, তার সমস্ত দুর্বিষহ ভার এসে চেপেছে কেবল একদল মানুষের কাঁধে… শ্রমিক শ্রেণি। মঞ্চের আলো-আঁধারিতে রবীন্দ্রনাথের সেই অনিবার্য উচ্চারণ যেন এক নির্বাক দৃশ্যকাব্য হয়ে মূর্ত হয়ে ওঠে, “ওরা কাজ করে দেশে দেশান্তরে, অঙ্গ বঙ্গ কলিঙ্গের সমুদ্র নদীর ঘাটে ঘাটে...”।

মঞ্চের পরিসরে সময়ের এই নির্মম বিবর্তনের চাক্ষুষ রূপান্তর দর্শকের স্নায়ুতে এক তীব্র মনস্তাত্ত্বিক অস্বস্তির জন্ম দেয়। ঠিক যেন চার্লি চ্যাপলিনের ‘মডার্ন টাইমস’ (Modern Times)-এর সেই প্রকাণ্ড যন্ত্রের চাকায় পিষ্ট হওয়া মানুষের নিয়তির মতোই, মঞ্চের সেই আদিম, বোঝাবওয়া মানুষগুলো কালের অমোঘ নিয়মে অবলীলায় রূপান্তরিত হয়ে যায় আজকের ছাঁচে-ঢালা ‘কর্পোরেট মজদুর’-এ। তাদের গলায় আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে দেওয়া হয় টাই নামের আধুনিক ফাঁস, চোখে পরিয়ে দেওয়া হয় পুঁজির রঙিন লাল রোদচশমা, আর হাতে ধরিয়ে দেওয়া হয় নয়া-উদারবাদী যুগের সবচেয়ে চকচকে শৃঙ্খল—’ইনসেনটিভ’। বেঁচে থাকা, নিছক টিকে থাকা... কিংবা আরও একটু ভালো থাকার মোহময় মোড়কে এই ইনসেনটিভের মরীচিকা আসলে শ্রমিকের শেষ ঘামটুকু নিংড়ে নেয়, আর নৈঃশব্দ্যের মাঝেই মালিকের কোষাগার হয়ে ওঠে আরও স্ফীত, আরও রাক্ষুসে।

কেতাব-ই’র ব্লগজিন বিভাগে লেখা পাঠাতে চান? মেল করুন blogzine.ketabe@gmail.com-এ। মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখুন ‘কেতাব-ই ব্লগজিনের জন্য লেখা’

এই রূপান্তরকে কেবল সময়ের সরলরৈখিক চলন বললে বোধহয় এর অন্তর্নিহিত নিষ্ঠুরতাটুকু অধরাই থেকে যায়। এ হল অর্থনীতির এক রক্তক্ষয়ী, নিরবচ্ছিন্ন ধারাবাহিকতা। সামন্ততন্ত্রের স্থবির যুগে ক্ষমতার একমাত্র ভরকেন্দ্র ছিল জমি। প্রভু আর ভূমিদাসের সেই শেকলবাঁধা কাঠামো চূর্ণ করে যখন পুঁজিবাদের উদয় হল, সাময়িক এক ঐতিহাসিক বিভ্রান্তিতে মানুষ ভেবেছিল—এ বুঝি মুক্তির এক নতুন ভোর। কিন্তু কার্ল মার্ক্স যেমন তাঁর ‘কমিউনিস্ট মেনিফেস্টো’-তে সতর্ক করেছিলেন, “All that is solid melts into air” (যাবতীয় কঠিন বস্তু বায়ুতে মিলাইয়া যায়)—তেমনি পুঁজির এই সর্বগ্রাসী আগ্রাসনে মানুষের দীর্ঘকালের অর্জিত মূল্যবোধ ও নিজস্ব সত্তা নিমিষেই বাষ্পীভূত হয়ে গেল। পুঁজিবাদের এই নব্য, বহুরূপী দানব কেবল মানুষের শ্রমটুকু কিনেই ক্ষান্ত হল না… সে নিলামে তুলল সম্পূর্ণ সমাজব্যবস্থা, মানুষের মনস্তত্ত্ব, এমনকি তার অবচেতনকেও। কার পোশাক কী হবে! কার নান্দনিক রুচি কোন খাতে বইবে! এমনকি মানুষ ঠিক কী ভাববে বা কী নিয়ে প্রতিবাদ করবে?—সবটাই সুকৌশলে নিয়ন্ত্রিত হতে শুরু করল পুঁজির অদৃশ্য অঙ্গুলিহেলনে। মানুষ তার স্বকীয়তা হারিয়ে পরিণত হল নিছক এক বারকোড-সাঁটা পণ্যে।

আর পুঁজির এই ক্ষুধা তো অন্তহীন। লেনিন অত্যন্ত তীক্ষ্ণভাবে দেখিয়েছিলেন, “সাম্রাজ্যবাদ হল পুঁজিবাদের সর্বোচ্চ স্তর”। নিজের ভূখণ্ডের বাজার যখন পুঁজির রাক্ষুসে মুনাফার খিদে মেটাতে ব্যর্থ হয়, তখন সে ভৌগোলিক সীমানা ডিঙিয়ে ধারণ করে আগ্রাসী সাম্রাজ্যবাদের নগ্ন রূপ। আজকের দিনে দাঁড়িয়ে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের দিকে তাকালে শিউরে উঠতে হয়। এ তো কেবল প্রাকৃতিক সম্পদ বা তেলের লোভে নয়, বরং এক চরম আধিপত্যকামী অহংকার এবং আত্মসন্তুষ্টির আস্ফালনে পৃথিবীর যে-কোনো প্রান্তের আকাশকে তারা অবলীলায় বারুদে ঢেকে দিতে পারে। গ্রিক পরিচালক থিও অ্যাঞ্জেলোপুলোসের (Theo Angelopoulos) মহাকাব্যিক সিনেমা ‘দ্য ট্রাভেলিং প্লেয়ার্স’ (The Travelling Players) (১৯৭৫)-এ যেমন ইতিহাসের এক অনন্ত, বিষণ্ণ চক্রাকার চলন দেখতে পাই, যেখানে সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধ আর ধ্বংসের ভেতর দিয়ে মানবতা বারবার পদদলিত হয়; ঠিক তেমনই আজকের সময়ের এই জ্বলন্ত ডলার আর যুদ্ধট্যাঙ্কের রক্তবর্ণ ক্যানভাস তো আসলে পুঁজির সেই সাম্রাজ্যবাদী লালসারই এক জীবন্ত দলিল।

সামন্ততন্ত্র, পুঁজিবাদ এবং সাম্রাজ্যবাদের এই বিষাক্ত গর্ভ থেকেই জন্ম নেয় আরেক ভয়ংকর, বিকলাঙ্গ মতবাদ—ফ্যাসিবাদ। যখন পুঁজিবাদ তার খাদের কিনারায় এসে দাঁড়ায়, শোষিত মানুষ যখন বিদ্রোহের স্ফুলিঙ্গ জ্বালানোর উপক্রম করে, ঠিক তখনই নিজস্ব স্থিতাবস্থা (Status Quo) বজায় রাখতে পুঁজি অত্যন্ত সুকৌশলে হাত মেলায় একনায়কতন্ত্রের সঙ্গে। এই নগ্ন ফ্যাসিবাদী কাঠামোতে প্রান্তিক মানুষ নিক্ষিপ্ত হয় আরও গভীর এক অন্ধকূপে। আর এই প্রান্তিকতার বয়ানে অনিবার্যভাবেই উঠে আসে নারীর কথা। কারণ, ফ্যাসিবাদের মূল ভিত্তিই হল এক উগ্র, আধিপত্যকামী পুরুষতন্ত্র… যা সবার আগে সুকৌশলে হত্যা করে নারীর ব্যক্তিসত্তাকে—তার পোশাকের অধিকার, তার চিন্তার পরিসর এবং তার সার্বিক স্বাধীনতাকে।

এই দমবন্ধ করা, রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে মঞ্চের এই নির্বাক বয়ান আমাদের দিকে এক গভীর মনস্তাত্ত্বিক ও দার্শনিক প্রশ্ন ছুড়ে দেয়। শিল্প-সমালোচক জন বার্জার (John Berger) তাঁর যুগান্তকারী ‘Ways of Seeing’ তত্ত্বে দেখিয়েছিলেন, পিতৃতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নারী কীভাবে নিজেকে সর্বদা অন্যের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে বাধ্য হয়। 

(“One might simplify this by saying: men act and women appear. Men look at women. Women watch themselves being looked at. This determines not only most relations between men and women but also the relation of women to themselves. The surveyor of woman in herself is male: the surveyed female. Thus she turns herself into an object - and most particularly an object of vision: a sight.”)

এই নাটক যেন সেই মনস্তত্ত্বকেই এক চরম রাজনৈতিক রূপকে দাঁড় করায়: এই কর্পোরেট ফ্যাসিবাদের নিরন্তর চাপে পিষ্ট হতে হতে নারী কি একটা সময়ের পর নিজের আয়নায় নিজের আসল মুখচ্ছবিটাই হারিয়ে ফেলে? পুঁজির সেই আগ্রাসী দৃষ্টির (Gaze) চাপে সে কি অন্যের ঠিক করে দেওয়া চোখ দিয়েই নিজের অস্তিত্বকে সংজ্ঞায়িত করতে শুরু করে? এই চরম ‘আইডেন্টিটি ক্রাইসিস’ বা আত্মবিস্মৃতিই হল কর্পোরেট ফ্যাসিবাদের সবচেয়ে বড়ো বিজয়স্তম্ভ। স্পিনোজার সূত্র ধরে জিল দ্যলুজের সেই আশ্চর্য প্রশ্নটি এখানে খুব প্রাসঙ্গিক—“মানুষ কেন নিজের শেকলের জন্যই এমন মরিয়া হয়ে লড়ে, যেন সেটাই তার চূড়ান্ত মুক্তি?” ফ্যাসিবাদ আসলে ঠিক এই মনস্তাত্ত্বিক বশীকরণের খেলাটাই খেলে। সে মানুষের মগজের দখল নিয়ে অত্যন্ত সুচারুভাবে ভুলিয়ে দেয় মানুষ আদতে কী চায়। আর একসময় শোষিত মানুষ নিজের অজান্তেই তার শৃঙ্খলকে অলংকার ভেবে ভালোবেসে ফেলে।

ফ্যাসিবাদের এই সর্বগ্রাসী, রুদ্ধশ্বাস ডানপন্থী আগ্রাসনের সামনে দাঁড়িয়ে একমাত্র সজোর প্রত্যাঘাত হতে পারত এক সুদৃঢ়, শিকড়বদ্ধ বামপন্থী দর্শন। কিন্তু একুশ শতকের এই মোহময় পরিমণ্ডলে দাঁড়িয়ে বামপন্থা যেন তার যূথবদ্ধ লড়াইয়ের ময়দান হারিয়ে কেবলই এক পুঁথিগত শৌখিনতা আর সামাজিক মাধ্যমের সস্তা, মেদবহুল সেনসেশনে পর্যবসিত হয়েছে। চেতনার শেকড় থেকে সম্পূর্ণ চ্যুত হয়ে আজকের প্রজন্ম এক নিরেট, আত্মপ্রতারণামূলক গোলকধাঁধায় অবিরাম পথ হাতড়াচ্ছে। মার্ক্সীয় আদর্শের সঙ্গে সামান্যতম তাত্ত্বিক বর্ণপরিচয় না ঘটিয়েই, স্রেফ ‘বিদ্রোহী’ হিসেবে নিজেকে জাহির করার এক তীব্র হুজুগে এবং ‘কুল’ সাজার এক মরিয়া তাড়নায়, তথাকথিত বুদ্ধিদীপ্ত মহলে চলছে অনন্ত, অন্তঃসারশূন্য বাগ্‌যুদ্ধ।

এই চরম আইডিওলজিক্যাল অবক্ষয়ের জায়গাটিকে ব্যাখ্যা করতে গেলে ফরাসি মার্ক্সবাদী তাত্ত্বিক গি দ্যবোর (Guy Debord) ও তাঁর ‘দ্য সোসাইটি অফ দ্য স্পেকট্যাকল’ (The Society of the Spectacle, 1967)-এর কথা অনিবার্যভাবেই উঠে আসে। দ্যবোর দেখিয়েছিলেন, আধুনিক পুঁজিবাদে বাস্তব জীবন তার অস্তিত্ব হারিয়ে কেবলই এক ‘প্রতিনিধিত্ব’ বা চটকদার ‘Spectacle’-এ পরিণত হয়েছে। পুঁজিবাদ এতটাই চতুর যে, সে ‘বিপ্লব’ বা ‘প্রতিবাদ’-কেও একটা প্রোডাক্ট বা পণ্য বানিয়ে বিক্রি করে দেয়। উদাহরণ হিসাবে জঁ-ল্যুক গোদারের ‘লা শিনোয়াজ’ (La Chinoise, 1967) সিনেমার সেই প্যারিসের বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে বসে থাকা বুর্জোয়া তরুণ-তরুণীদের কথা মনে পড়তে পারে। যারা বাস্তব শ্রমিক শ্রেণির ঘাম, রক্ত ও যাপন থেকে যোজন দূরে বসে কেবল মাওবাদী বিপ্লবের এক রোমান্টিক ‘প্লে-অ্যাক্টিং’ করে চলত। আজকের এই সোশ্যাল মিডিয়া-নির্ভর বামপন্থীদের অবস্থাও ঠিক তেমনই নয় কি!

“মানবজাতির আজ পর্যন্ত বিদ্যমান ইতিহাস আদতে শ্রেণি সংগ্রামের ইতিহাস” এবং “শ্রমিক শ্রেণির শৃঙ্খল ছাড়া হারানোর আর কিছুই নেই”—কমিউনিস্ট ইশতেহারের এই দুটি অমোঘ, ধ্রুপদি বাক্যের মধ্যে যে মৌলিকভাবে কোনোই অন্তর্নিহিত দ্বন্দ্ব নেই, এই অতি-প্রাথমিক সত্যটুকু অনুধাবন করার মতো মননশীলতার আজ চরম আকাল। তত্ত্বের অহেতুক, শব্দসর্বস্ব চুলচেরা বিশ্লেষণে মগ্ন হয়ে সমাজের কোনো কাঠামোগত রূপান্তর তো ঘটছেই না, বরং মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী দু-চারটে ফাঁকা, ডিজিটাল পোস্ট করেই আজকের আত্মমগ্ন প্রজন্ম এক অলীক আত্মতৃপ্তিতে ভুগছে। তারা সত্যি সত্যিই বিশ্বাস করতে শুরু করেছে যে, এই কি-বোর্ডের বোতাম টিপেই বুঝি তারা সাম্রাজ্যবাদের ভিত নাড়িয়ে দেওয়া যাবে।

এই যে লড়াইয়ের ময়দান থেকে পালিয়ে গিয়ে ভার্চুয়াল জগতে বিপ্লবের ফ্যান্টাসি তৈরি করা—এ কোনো প্রতিরোধ নয়, এ আসলে এক চূড়ান্ত বৌদ্ধিক হিপোক্রিসি এবং এক মর্মান্তিক, গোলমেলে প্রহসন। ঠিক এই শূন্যতার জায়গাতেই “হয়তো Cocacola হয়তো মার্ক্স”-এর মতো একটি নির্বাক নাটকের জন্ম হয়, যা সংলাপের এই মিথ্যে আস্ফালনকে বাতিল করে দিয়ে ক্যাকোফনির আঘাতে আমাদের এই হিপোক্রিসিকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করায়। 

ঠিক এই ভয়ংকর জ্ঞানতাত্ত্বিক স্ববিরোধিতা এবং আত্মপ্রবঞ্চনার মোহনাতেই এসে আছড়ে পড়ে জঁ-ল্যুক গোদারের সেই কালজয়ী দর্শন—“We are the children of Marx and Coca-Cola”। নাটকের নামকরণ “হয়তো Coca-cola হয়তো মার্ক্স” আমাদের যাপনের এই নিরেট হিপোক্রিসিরই এক অসামান্য থিয়েট্রিক্যাল ডিকনস্ট্রাকশন। কিন্তু কেন মার্ক্স এবং কেনই-বা কোকা-কোলা? এইদুটি শব্দে রূপকের গভীরে লুকিয়ে আছে গত এক শতাব্দীর সবচেয়ে জটিল আর্থসামাজিক সমীকরণ।

মার্ক্স এখানে কেবল ঊনবিংশ শতাব্দীর একজন রাজনৈতিক দার্শনিক নন; তিনি হলেন শ্রেণিসংগ্রাম, শোষণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ এবং এক ন্যায়ভিত্তিক, সাম্যবাদী কাঠামোর অকাট্য রূপক। মার্ক্স মানে হল আমাদের বুদ্ধিবৃত্তিক জাগরণ এবং স্থিতাবস্থাকে প্রশ্ন করার স্পর্ধা। অন্যদিকে, কোকা-কোলা হল বিশ্বায়িত পুঁজিবাদ বা নব্য-উদারবাদী (Neoliberal) অর্থনীতির সবচেয়ে সফল, সর্বগ্রাসী এবং আগ্রাসী প্রতীক। এটি কেবল একটি কার্বোনেটেড পানীয় নয়; এটি হল কনজিউমারিজ়ম (ভোক্তাবাদ), তাত্ক্ষণিক তৃপ্তি (instant gratification), এবং সাংস্কৃতিক সাম্রাজ্যবাদের সমার্থক শব্দ।

আর্থসামাজিক বাস্তবতায় আমরা এমন এক অদ্ভুত ক্রান্তিলগ্নের সন্তান, যেখানে এই দুই সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী মেরু আমাদের অস্তিত্বের ডিএনএ-তে অবিচ্ছেদ্যভাবে মিশে গেছে। আমরা চেতনায় মার্ক্সের আদর্শকে ধারণ করে বিপ্লব চাই, সাম্য চাই। কিন্তু আমাদের স্নায়ু, আমাদের দৈনন্দিন যাপন কোকা-কোলার কর্পোরেট স্বাচ্ছন্দ্যকে বিন্দুমাত্র ছাড়তে রাজি নয়। পুঁজিবাদের সবচেয়ে বড়ো জয় এখানেই যে, সে আমাদের মনস্তত্ত্বকে এমনভাবে দখল করেছে যেখানে আমরা পুঁজিবাদের দেওয়া আরামদায়ক খাঁচায় বসেই পুঁজিবাদের পতন কামনা করি।

পুঁজিবাদ এতটাই চতুর এবং রাক্ষুসে যে সে ‘বিপ্লব’-কেও একটি লোভনীয় পণ্যে পরিণত করে বাজারে বিক্রি করে দেয়। আমরা যখন কোনো মাল্টিন্যাশনাল কর্পোরেশনের তৈরি করা সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে বসে সাম্রাজ্যবাদের মুণ্ডপাত করি, কিংবা থার্ড-ওয়ার্ল্ডের সস্তা শ্রমিকের রক্তজল করা শ্রমে তৈরি হওয়া ‘চে গুয়েভারা’-র ছবি আঁকা দামি টি-শার্ট পরে ইনকিলাব জিন্দাবাদ স্লোগান দিই, ঠিক তখনই মার্ক্স আর কোকা-কোলার এক অদ্ভুত, বিকৃত সহাবস্থান ঘটে। ব্রিটিশ সাংস্কৃতিক তাত্ত্বিক মার্ক ফিশার (Mark Fisher) তাঁর যুগান্তকারী ‘Capitalist Realism’ তত্ত্বে দেখিয়েছিলেন, পুঁজিবাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করাটাও এখন পুঁজিবাদেরই একটা অঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে (“It is easier to imagine an end to the world than an end to capitalism”)। সিস্টেম আমাদের সুযোগ করে দেয় প্রতিবাদ করার, যাতে আমাদের ভেতরের ক্ষোভটা প্রশমিত হয় এবং আমরা আবার পরের দিন সকালে কর্পোরেট চাকায় ঘানি টানতে ফিরে যাই।

“হয়তো Cocacola হয়তো মার্ক্স” নামকরণের মধ্যে দিয়ে নির্দেশক এই চরম আর্থসামাজিক ট্র্যাজেডিটিকেই মঞ্চে নগ্ন করে দেখিয়েছেন। আমরা এই দুইয়ের মাঝে ঝুলন্ত এক দ্বিধাগ্রস্ত প্রজন্ম। যারা মার্ক্সের কাছে বৌদ্ধিক আশ্রয় খোঁজে, আর কোকা-কোলার কাছে খোঁজে জীবনের তৃষ্ণা মেটানোর তাৎক্ষণিক সান্ত্বনা।

এই চরম আইডিওলজিক্যাল অবক্ষয়ের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে প্রথাগত ফর্মে বিপ্লব খোঁজাটাই এক চরম মূর্খতা। কারণ, প্রথাগত প্রসেনিয়াম (Proscenium) নাট্যচর্চা তো আদতে বুর্জোয়া পুঁজিবাদেরই এক সুচারু বিনোদন-কল। নরম গদিতে বসে, অর্থের বিনিময়ে টিকিট কেটে একজন প্যাসিভ বা নিষ্ক্রিয় ভোক্তা হিসেবে ‘বিপ্লব’ উপভোগ করা আসলে পুঁজিবাদেরই পাতা এক মোলায়েম ফাঁদ। প্রখ্যাত নারীবাদী তাত্ত্বিক অড্রে লর্ড (Audre Lorde) যথার্থই বলেছিলেন, “The master’s tools will never dismantle the master’s house” (প্রভুর নিজস্ব হাতিয়ার দিয়ে কখনোই প্রভুর অট্টালিকা ভাঙা যায় না)। অর্থাৎ, পুঁজির নির্মাণ করা নিটোল, স্বস্তিদায়ক ফর্ম দিয়ে পুঁজির বুকেই আঘাত হানা এক তাত্ত্বিক অসম্ভব। স্থিতাবস্থাকে চূর্ণ করতে হলে সবার আগে ফর্মের স্থিতাবস্থাকে ভাঙতে হয়।

আর ঠিক এই কাঠামোগত বিদ্রোহটাই নির্দেশক শরণ্য দে এবং 10th প্ল্যানেট অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে করেছেন। তিনি প্রথাগত সংলাপকে সম্পূর্ণ বর্জন করেছেন, কারণ এই কর্পোরেট ক্যাকোফনির যুগে, পণ্য-বিক্রির অবিরাম কোলাহলে কোনো তাত্ত্বিক শব্দই আর মানুষের বধির স্নায়ুতে পৌঁছায় না। গোদার যেমন তাঁর সিনেমায় ‘জাম্প কাট’ আর সমলয়হীন শব্দের (Asynchronous sound) মাধ্যমে দর্শকের মসৃণ ইলিউশন ভেঙে চুরমার করে দিতেন, এই নাটকেও নৈঃশব্দ্য এবং যান্ত্রিক বা প্রাকৃতিক শব্দের তীব্রতা ঠিক সেই ব্রেখটিয়ান ‘এলিয়েনেশন’ বা বিচ্ছিন্নতাবোধ তৈরি করে। পিটার হ্যান্ডকের ‘The Hour We Knew Nothing of Each Other’ বা স্যামুয়েল বেকেটের ‘Act Without Words’-এর মতো বিশ্বমানের পোস্ট-ড্রামাটিক কাজের যে নিঃশব্দ, প্রতীকি ধারা… এই প্রযোজনা অত্যন্ত নিপুণভাবে তাকেই যেন কলকাতার মঞ্চে এক নতুন, তীক্ষ্ণ রাজনৈতিক বয়ানে অনুবাদ করল।

ফর্মের এই রূঢ় রাজনৈতিক বয়ানকে মঞ্চে রক্তমাংসের বাস্তবতা দিয়েছে অভিনেতাদের এক আশ্চর্য, নিরলস যূথবদ্ধতা। যেহেতু কোনো উচ্চারিত শব্দ নেই, তাই শরীরই এখানে একমাত্র টেক্সট, একমাত্র ইশতেহার। মঞ্চে উপস্থিত অভিনেতাদের কোরাস এবং শরীরী অভিনয়ের (Physical acting) যে চূড়ান্ত নিখুঁত ও যন্ত্রবৎ চলন, তা পুঁজির পেষণযন্ত্রে পিষ্ট হওয়া মানুষের নিয়তিকেই অসামান্য দক্ষতায় মূর্ত করে তোলে। প্রতিটি পেশির টান, প্রতিটি পদক্ষেপের জ্যামিতি যেন এক একটি নীরব স্লোগান। প্রথাগত সংলাপের এই অনুপস্থিতিতে রাহুল রায়ের তৈরি করা রূঢ়, মায়াবী অথচ এলিয়েনেটিং আলোকসম্পাত ও প্রোজেক্টারের বুদ্ধিদীপ্ত ব্যবহার এবং রণিত মালাকারের বোনা সেই অস্থির, যান্ত্রিক ক্যাকোফনিই যেন এই নাটকের মূল ডায়লগ হয়ে উঠেছে। আলো ও শব্দ এখানে কেবল আবহ নয়, বরং এরা প্রত্যেকেই এক-একজন অদৃশ্য এবং আগ্রাসী অভিনেতা। আর এমন একটি শরীর-নির্ভর, ছকভাঙা এবং জটিল কোরিওগ্রাফিকে মঞ্চের পরিসরে সুচারুভাবে বেঁধে রাখার নেপথ্যে সহকারী নির্দেশক হিসেবে দেবযানী চক্রবর্তীর অবদান অত্যন্ত জোরালো। তাঁর সূক্ষ্ম পরিমিতিবোধ গোটা প্রোডাকশনটির নৈরাজ্যিক কাঠামোকে এক দারুণ ভারসাম্য এবং স্থায়িত্ব দিয়েছে।

সংলাপহীন এই পঞ্চাশটি মিনিট আসলে কোনো নিছক পারফরম্যান্স নয়, এ যেন আমাদের নিজেদেরই যাপনের এক নগ্ন, রক্তাক্ত প্রতিবিম্ব… দীর্ঘ আর্থসামাজিক ইতিহাসের ইশতেহার। ককেশাস পর্বতের যে আদিম, স্পর্ধিত আগুন দিয়ে এই দৃশ্যকাব্যের শুরু হয়েছিল, নাটক শেষে তা যেন চিরতরে নিভে যায়; মঞ্চের শূন্যতায় পড়ে থাকে কেবল কর্পোরেট ফ্যাক্টরির দমবন্ধ করা ধোঁয়া আর নিভতে থাকা কিছু জীর্ণ আদর্শের ছাই আর কোকা-কোলা।

প্রসেনিয়াম থিয়েটারকে যারা কেবল উইকএন্ডের বুদ্ধিবৃত্তিক বিনোদন বা ‘ক্যাথারসিস’-এর আরামদায়ক মাধ্যম বলে মনে করেন, এই প্রযোজনা তাঁদের জন্য নয়। বিশ্বজুড়ে যে ভয়াবহ আর্থসামাজিক অবক্ষয় এবং আদর্শগত পচন মানবসভ্যতাকে গ্রাস করছে, “হয়তো Cocacola হয়তো মার্ক্স” হল সেই ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে লেখা এক নির্ভীক, শৈল্পিক ইশতেহার। নির্দেশক এখানে অত্যন্ত সচেতনভাবে, প্রায় এক নৈর্ব্যক্তিক নিষ্ঠুরতায় দর্শককে বারবার এক চরম মনস্তাত্ত্বিক অস্বস্তির দিকে ঠেলে দিয়েছেন। এই অস্বস্তিটুকু তিনি দায়িত্ব নিয়েই তৈরি করেছেন, কারণ তিনি যেন আমাদের মনে করিয়ে দিতে চেয়েছেন—যে সময় ও সমাজ এতটা অস্থির, এতটা পঙ্গু, সেখানে থিয়েটারের নামে কোনো মিথ্যে মনস্তাত্ত্বিক সান্ত্বনা দেওয়াটা আসলে এক বড়োসড়ো শৈল্পিক অপরাধ। নাট্যগৃহের অন্ধকার থেকে শো শেষে যখন আপনি কলকাতার পরিচিত রাস্তায় এসে দাঁড়াবেন, আপনার একবারও মনে হবে না যে আপনি নিছক কোনো থিয়েটার দেখে ফিরছেন। বরং এক গভীর শূন্যতায় আপনার মনে হবে, গত পঞ্চাশ মিনিট ধরে আপনি কোনো দর্শকাসনে নয়, আপনি আসলে নিজেরই গিল্টি কনসায়েন্স বা অপরাধবোধের এক অদৃশ্য কাঠগড়ায় এক নীরব, দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির মতো যেন দাঁড়িয়ে ছিলেন।

থিয়েটার যদি কেবল প্রসাধন না হয়ে আমাদের মগজে গেঁথে থাকা স্থিতাবস্থাকে সজোরে একটা চড় মারতে পারে, তবে এই নাটক সেই চড়টা অত্যন্ত নিখুঁত এবং নির্মমভাবে মেরেছে। রাজনৈতিক থিয়েটারে ফর্ম বা কাঠামো ভাঙার যে দুঃসাহসিক গবেষণা এখানে দেখা গেল, তা এভাবেই স্পর্ধার সঙ্গে চলতে থাকুক। যে শিল্প আমাদের মস্তিষ্কের আরামদায়ক কোটরগুলো ভেঙে চুরমার করে দিয়ে সমকাল সম্পর্কে এক তীক্ষ্ণ ভাবনার খোরাক জোগায়, আজ এই অবক্ষয়ের যুগে তার বড়ো বেশি প্রয়োজন।

তথ্যসূত্র:
Angelopoulos, Theo, director. The Travelling Players (O Thiasos). Finos Film, 1975.
Berger, John. Ways of Seeing. Penguin Books, 1972.
Chaplin, Charlie, director. Modern Times. United Artists, 1936.
Debord, Guy. The Society of the Spectacle. Translated by Donald Nicholson-Smith, Zone Books, 1994.
Deleuze, Gilles, and Félix Guattari. Anti-Oedipus: Capitalism and Schizophrenia. Translated by Robert Hurley, Mark Seem, and Helen R. Lane, Viking Press, 1977.
Fisher, Mark. Capitalist Realism: Is There No Alternative? Zero Books, 2009.
Godard, Jean-Luc, director. La Chinoise. Athos Films, 1967.
Godard, Jean-Luc, director. Masculin Féminin. Anouchka Films / Svensk Filmindustri, 1966.
Lenin, Vladimir I. Imperialism, the Highest Stage of Capitalism. 1917. Progress Publishers, 1963.
Lorde, Audre. “The Master’s Tools Will Never Dismantle the Master’s House.” Sister Outsider: Essays and Speeches, Crossing Press, 1984, pp. 110-113.
Marx, Karl, and Friedrich Engels. The Communist Manifesto. 1848. Penguin Classics, 2002.
Tagore, Rabindranath. “Ora Kaj Kore.” Arogya, Visva-Bharati, 1941.


কেতাব-ই’র মুদ্রিত বই,ই-বই এবং ব্লগজিন বিভাগের লেখালিখির নিয়মিত খোঁজখবর পেতে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন


এই ব্লগজিনে প্রকাশিত সমস্ত লেখার বক্তব্য লেখকের নিজস্ব।

লেখক

প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র। এখন লেখালেখি আর চরিত্র অভিনয়ের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। “Miles to go before I sleep.”

অন্যান্য লেখা