বিষ আর মধুর দ্বন্দ্বে গড়া এই কবিতাগুচ্ছ অন্তর্জগতের অন্ধকার, স্মৃতি, আকাঙ্ক্ষা ও গোপন যন্ত্রণাকে মায়াময় ভাষায় তুলে ধরে। বাস্তব ও স্বপ্নের সীমান্তে দাঁড়িয়ে তৈরি হয় এক তীব্র, অন্তরঙ্গ অনুভবের জগৎ। কেতাব-ই ব্লগজিনে ‘জেলার সাহিত্য’ বিভাগে আজ প্রকাশিত হল দার্জিলিং জেলার কবি রিমি দে-এর কবিতা।
এক
ভেতরে ভেতরে যে এত বিষ জমা হয়ে আছে, সেটা
আগে বুঝতে পারিনি
আমি তার থেকে আলো খুঁটে খাই
লিপির পাশে অক্ষরদাকে দেখে প্রথমে তো চোখ ছানাবড়া
তারপর গা জ্বলতে শুরু করে! ওদের চলাফেরার মাখো মাখো ভাষাই বলে দিচ্ছিল পরবর্তী ত্রিভূজ, বৃত্ত, আয়তক্ষেত্র এবং চতুর্ভুজ প্রণালীর কথা...
নিজেকে সামলাতে না পেরে একটি লোহার গেট আঁকলাম গেটের চারদিকে উপচে পড়া মাধবীলতা...
গেটের সমান্তরালে যে সরু কাঁচা রাস্তাটি অলিগলি,
খুকুদের বাড়ির উঠোন, ভোম্বলদাদের কুয়োতলা পেরিয়ে
শ্যামলকান্তির কবিতার মতো ধানখেত মাড়িয়ে
চলে চলে গেছে, সেই রাস্তা ছুঁয়ে দৌড়তে দৌড়তে হাঁপাতে হাঁপাতে বিশ্বাসকাকুর বাড়ি এসে পড়েছিলাম
বিশ্বাসকাকুর দুই ছেলে
মেয়ে বউ দুইজনে সাঁতার শিখতে গিয়ে মারা যায় একসাথে
শিমুলপাড়ার লোকেরা বলে বিশ্বাসকাকুর মেয়ে ও বউ নাকি দুই সতীনের মতো আচরণ করত পরস্পর
দুইজনের মধ্যে মা মেয়ের সম্পর্ক ছিল না
আমি এইগুলো সব জানতাম
জেনেও না জানার ভান করতাম
এইরকম বেশ কিছু বিষ আমার পোষ্য ছিল
কেতাব-ই’র ব্লগজিন বিভাগে লেখা পাঠাতে চান? মেল করুন blogzine.ketabe@gmail.com-এ। মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখুন ‘কেতাব-ই ব্লগজিনের জন্য লেখা’।
দুই
শীত বর্ষা ও মরচে পড়া গলিপথ সরিয়ে পাহাড়ি পথটি বেরিয়ে এসেছিল অকস্মাৎ
পাশের স্টেশনেই আমরা একদিন শীতকাল হয়েছিলাম
আমাদের উত্তেজনায় উঁকিঝুঁকি দিয়েছিল রডোডেনড্রন
প্রতি স্তবকের কুয়াশা রহস্য পেরিয়ে বিশ্রাম কক্ষে
স্বপ্নের হেমন্ত এসে ধরা দিয়েছিল সকাতর
কয়েক আস্তরণ ধুলোমাখা ভিন্টেজ চেয়ার টেবিল
বাদামি পেলমেটে সাদা পায়রার বসতের ছোঁয়া
আমাদের গানের ভেতর ছিল সুপ্ত উষ্ণ অগ্রহায়ণ
টলটলে জলভরা দিঘির গভীরে শ্যাওলার আঁচল
আঁশটে আলাপে নবান্নের গোবিন্দভোগ
উপভোগে ছিল আষাঢ় শ্রাবণ
বজ্রপাতে ঘনঘোর প্রবাস শিখর
পাহাড়ে সেইসব মধু এখনও আছে...!
তিন
গানটি এমনভাবে এঁকেবেঁকে যাচ্ছিল যে
বুঝে উঠবার আগেই সে আমার ভেতরে
প্রবেশ করে গেল তাঁর সুতীক্ষ্ণ চাতুর্য খেলিয়ে
আমাকে মিলিয়ে নেবার কোনো সুযোগই দিল না
দোলনা দোলনার মতো পড়ে থাকল
পড়ে থাকল বেলিফুলের ঘ্রাণ
আলো আভাস সব কিছু
আমি এলিয়ে পড়লাম ধীরে
সারা শরীরে ঘোর অমাবস্যা দুলে উঠেছিল
কেতাব-ই’র মুদ্রিত বই,ই-বই এবং ব্লগজিন বিভাগের লেখালিখির নিয়মিত খোঁজখবর পেতে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন।
এই ব্লগজিনে প্রকাশিত সমস্ত লেখার বক্তব্য লেখকের নিজস্ব।