আপন রায়ের কবিতাগুলো এক অদ্ভুত অন্তর্গহ্বরের ভাষা নির্মাণ করে—যেখানে শূন্যতা, ক্ষয়, দেহ, রক্ত, আগুন ও ছায়া পরস্পরের সঙ্গে মিশে যায় অস্তিত্বের গোপন ব্যাকরণে। এই কবিতাগুলিতে প্রেম যেমন আছে, তেমনি আছে আত্মধ্বংসের ধীর প্রস্তুতি; আছে ঈশ্বরহীনতার নিঃসঙ্গতা ও পোড়া কাঠের মতো নিঃশেষিত মানবজীবনের বিষণ্ণ দীপ্তি। সংক্ষিপ্ত অথচ ধারালো চিত্রকল্পে এই কবিতাগুচ্ছ সমকালীন বাংলা কবিতায় এক ঘন, মায়াবাস্তব ও দার্শনিক অন্ধকারের দরজা খুলে দেয়।
১.
শূন্যে কোনো ফল ঝুলে নেই, শূন্যতা ছাড়া
এবং খসে পড়ার জন্য সব ফলই প্রস্তুত হচ্ছে
নিজের ছায়ার ভেতরে নিজেকে খুঁজে পাবে না
অন্যকারও ছায়া বেশি অন্ধকার হয়ে থাকে
রক্তের ফোঁটাগুলো ভেতরে ভেতরে অস্থির
মাংস আর চামড়ার আবরণ আটকে রাখে
খোসা ছাড়ালে শূন্যতাকে নরমই মনে হবে
২.
তোমার ছায়ার ভেতরে ঢুকে পড়ছি আমি
জল না থাকলেও, বালি ভেতরে ভিজে থাকে
একটা একটা করে কোষ সারিবদ্ধ
একটা একটা করে ঘুম পাড়াতে হবে
সান্ত্বনার হাত নকলও হতে পারে
অপেক্ষার ভেতর বিরক্তি নেই
কবিতা আছে
পাহাড়ের ক্ষয়
আগুন তোমাকে কাঠ ভেবেই পোড়ায়
কেতাব-ই’র ব্লগজিন বিভাগে লেখা পাঠাতে চান? মেল করুন blogzine.ketabe@gmail.com-এ। মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখুন ‘কেতাব-ই ব্লগজিনের জন্য লেখা’।
৩.
একজোট হয়ে মাংস-মাংসের নেশায় বুঁদ হয়ে থাকে
ওষুধের দোকানে সবরকমের ওষুধ থাকতে নেই
আঘাটায় নৌকা বাঁধতে নেই
এখানে কোনো ঈশ্বর নেই
বালিতে মুখ ডুবিয়ে মরে পড়ে আছে
জল উঠে এলে, গাছের গোড়ায় ঢালতে হবে
আর জলের সিংহাসন, নৌকা যেন ভেদ করে যায়
৪.
নখের দাঁগ থেকে রক্ত ঝরছে
অর্ধবৃত্তাকার ক্ষতজুড়ে আমার থাকা
ফলের সাথে গাছের নৈকট্য ভাঙতে
একটা বাতাস
দিগ্ভ্রষ্ট হয়ে ভেসে যাচ্ছে
আয়নায় নীরব কান্না আর বিলাপ জমা হয়
পাহাড়ের কোল থেকে তোমার ফেলে যাওয়া অস্ত্রশস্ত্র কেউ কুড়িয়ে নিক
৫.
আমাকে হত্যার দিন তুমি আত্মগোপন থেকে বেরিয়ে এস
শিকারী-চোখ বেঁধে সমস্ত পাখিকে উড়ে যেতে দিতে হবে
আমার সমস্ত কবিতার সম্ভাবনাই নিভে আসা আগুনের মতো
পাখি-শিকারীদের পাপ-ধোয়া জলে আমি স্নান সেরে ফিরি
যেটুকু পোড়ার ছিল, পুড়ে গেছি
আগুনকে পোড়া কাঠের সান্ত্বনা মনে হয়...
কেতাব-ই’র মুদ্রিত বই,ই-বই এবং ব্লগজিন বিভাগের লেখালিখির নিয়মিত খোঁজখবর পেতে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন।
এই ব্লগজিনে প্রকাশিত সমস্ত লেখার বক্তব্য লেখকের নিজস্ব।