অসুস্থ শরীর, অনুপস্থিত মানুষের স্মৃতি আর শিশুচোখের সরল বিস্ময়—এই কবিতাগুচ্ছ জীবনের ক্ষয়কে দেখেছে গভীর মানবিকতায়। হাসপাতালের বেড থেকে নির্জন ঘর, বৃষ্টির আগে ফিরে আসা পাখি থেকে সকালের বাজার—রামকুমার আচার্যের কবিতায় মৃত্যু ও বেঁচে থাকা এক অদ্ভুত কোমল রহস্যে মিশে যায়। এখানে যন্ত্রণা কখনও চিৎকার নয়, বরং নীরব আলোয় ভিজে থাকা মানুষেরই মুখ।
১.
যে মানুষটি হেঁটে হেঁটে গিয়ে শুয়ে পড়ল
হাসপাতালের বেডে
ডায়ালিসিসের আগে চিৎকার করে
বলতে চেয়েছিল সুচের ব্যথা
ক্লান্ত হয়ে পড়া অক্সিমিটার
বুঝতে পারেনি আঙুলের ইশারা
মানুষটি শুধু সকাল দেখতে চেয়েছিল
আমার কাছে প্রতিটি সকাল রহস্যের
হাজার হাজার লোকের ভিড়ে
থরে থরে মাটির উপর সাজানো থাকে
আলু পটল বেগুন...
২.
চোখ বন্ধ করলে দেখি
ওষুধ খাচ্ছ তুমি
টেবিলে সাজানো ইনহেলার
সিলিন্ডার থেকে বেরোচ্ছে অক্সিজেন
চোখ খুলে দেখি
সব মিথ্যে
পড়ে আছে একা একটি ঘর
আর একটি পাপোশ
তোমার পায়ের ধুলো দিয়ে বুনব
নির্জন একটি রাস্তা
কেতাব-ই’র ব্লগজিন বিভাগে লেখা পাঠাতে চান? মেল করুন blogzine.ketabe@gmail.com-এ। মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখুন ‘কেতাব-ই ব্লগজিনের জন্য লেখা’।
৩.
মানুষ মারা গেলে কী হয়
জানে না আমার একরত্তি
মা কাঁদলে সে-ও কাঁদে
মা হাসলে তার মুখেও হাসি
সন্ধ্যায় বাবার কোলে আকাশ দেখলে
তারার দিকে আঙুল বাড়িয়ে বলে
‘দাদামনি বেরিয়েছে’
কালো মেঘের রাতে
সে ভুলে যায় দাদামনিকে
বৃষ্টির আগে ফিরে আসে পাখিরা
আমিও বাবা
ভিজতে হয় পুড়তে হয়
কেতাব-ই’র মুদ্রিত বই,ই-বই এবং ব্লগজিন বিভাগের লেখালিখির নিয়মিত খোঁজখবর পেতে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন।
এই ব্লগজিনে প্রকাশিত সমস্ত লেখার বক্তব্য লেখকের নিজস্ব।