preloader
বাংলা বইয়ের e-ভুবন
Menu Categories Search Cart 0
Menu
Cart

Total 0 Items

☹ Your cart is empty

Sub Total:

$0

₹0

বিভাগ
জলপাইগুড়ির ইতিকথা: একটি সংক্ষিপ্ত অনুসন্ধান
প্রবন্ধ

জলপাইগুড়ির ইতিকথা: একটি সংক্ষিপ্ত অনুসন্ধান

এই মাস থেকে কেতাব-ই ব্লগজিনে শুরু হল ‘জেলার সাহিত‍্য’ নামের এক বিশেষ আয়োজন। যার মূল উদ্দেশ্য পাঠককে বিভিন্ন জেলার নতুন ও পুরনো লেখকদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া এবং বিভিন্ন জেলার ভিন্ন স্বরকে একত্রিত করে বর্তমান বাংলা সাহিত্যের সামগ্রিক রূপনির্মাণ। আমাদের প্রথম নির্বাচিত জেলাগুলি হল দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, এবং কোচবিহার। গোটা এপ্রিল মাস জুড়ে আমরা প্রকাশ করব এই পাঁচ জেলার সাহিত্য। আজ প্রকাশিত হল জলপাইগুড়ি জেলার কবি ও প্রাবন্ধিক ঋষভ চক্রবর্তী-র প্রবন্ধ।

ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতির আকর জলপাইগুড়ি। ভৌগোলিকভাবে জলপাইগুড়ি জেলা ২৬° ১৬’ এবং ২৭° ০’ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮°৪’ এবং ৮৯°৫৩’ পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অবস্থিত। আমাদের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর অংশে অবস্থিত এবং যথাক্রমে উত্তর-পূর্ব এবং দক্ষিণে ভুটান এবং বাংলাদেশের সাথে আন্তর্জাতিক সীমানা ভাগ করে। অবশিষ্ট সীমানাগুলি পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমে দার্জিলিং জেলা, উত্তরে কালিম্পং জেলা, দক্ষিণ-পূর্বে কোচবিহার জেলা এবং পশ্চিমে আলিপুরদুয়ার জেলার সাথে ভাগ করা হয়েছে। আমাদের আলোচ্য ‘জলপাইগুড়ির ইতিকথা: একটি সংক্ষিপ্ত অনুসন্ধান’ শীর্ষক প্রবন্ধে আমাদের শুরুতেই জেনে নেওয়া প্রয়োজন এই জেলা গঠনের পূর্ববর্তী ইতিহাস। মূলত প্রান্তিক জেলা জলপাইগুড়ি তৎকালীন অবিভক্ত বাংলার হিমালয় সংলগ্ন একটি জেলা। ১৮৬৪ সালের ১২ই নভেম্বর এক সরকারি ঘোষণার মাধ্যমে পশ্চিম ডুয়ার্স অথবা বেঙ্গল ডুয়ার্স ব্রিটিশ ভারতের সাথে যুক্ত হয়। এদিকে এক বছর বিক্ষিপ্ত যুদ্ধের পর পরাজিত ভুটান ১৮৬৫ সালে ১১ই নভেম্বর সিঞ্চুলা চুক্তি স্বাক্ষর করে। চুক্তি স্বাক্ষরের পর এক নতুন জেলা গঠনের উদ্যোগ শুরু হয়।১ এটাই ছিল সূত্রপাত এবং সেই থেকেই ক্রমে গঠিত হয়েছিল আমাদের জলপাইগুড়ি জেলা। ১৮৬৯ সালের ১লা জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে জলপাইগুড়ি জেলার প্রতিষ্ঠা হয়েছিল।

তৎকালীন সময় জলপাইগুড়ি জেলা শহর গড়ে উঠেছিল বহিরাগত বিবিধ মানুষদের নিয়ে, তখন আইনজীবী, চিকিৎসক, সরকারি কর্মচারি, ব্যবসায়ী প্রমুখরাই ছিলেন জলপাইগুড়ির নতুন নাগরিক সমাজ। একটি জেলা গঠন হওয়ার সাথেই তৈরি হয়েছিল সেখানে নানান সুযোগ-সুবিধের পরিসর। তৎকালীন জলপাইগুড়িতে অনেক ব্যক্তিত্বের নাম পাই, কিন্তু তার মধ্যেই অন্যতম একজন ব্যক্তিত্ব ছিলেন জগদীন্দ্রদেব রায়কত। নব্য জলপাইগুড়ি নির্মাতাদের অন্যতম ছিলেন জগদীন্দ্রদেব রায়কত। ষোড়শ শতাব্দীর প্রথমার্ধেই কোচ নৃপতি বিশ্বসিংহের অভিষেককালে তাঁর ভ্রাতা শিশু সিংহ ছত্র ধারণ করেছিলেন বলে তাঁকে রায়কত বা দুর্গাধিপতি উপাধি দেওয়া হয়েছিল। শিশু সিংহ তখন রাজার প্রধানমন্ত্রী পদে ছিলেন। তিনি তিস্তা নদীর পশ্চিমপারে বৈকুণ্ঠপুর পরগনায় বসতি স্থাপন করেছিলেন। নব্য জলপাইগুড়ির আর এক চিন্তানায়ক উপেন্দ্রনাথ বর্মন জগদীন্দ্রদেবকে সম্বোধন করেছিলেন ‘যুগপুরুষ’।২ তাই তাঁকে বাদ দিয়ে নব্য জলপাইগুড়ির ইতিহাস বিষয়ক যে-কোনো লেখাই মূলত অসম্পূর্ণ।

মূলত ইংরেজি শিক্ষার মাধ্যমে যে নতুন বিদ্যোৎসাহী সমাজে গড়ে ওঠে, জগদীন্দ্রদেবও ক্রমে ক্রমে সেই সমাজের একজন প্রধান ব্যক্তিত্ব হয়ে উঠতে পেরেছিলেন তাঁর অর্জিত শিক্ষা দিয়ে। যা শুধু বৈকুন্ঠপুর রাজপরিবারের সদস্যদের জন্য নয়, জলপাইগুড়িবাসীর কল্যাণেও নিয়োজিত হয়েছিল। কলকাতায় বঙ্গীয় রেনেসাঁর যে আলোকধারা তা এই প্রান্তিক জেলা শহরেও বহন করে আনতে সমর্থ হয়েছিলেন। সেই সময়ে বাংলার অনান্য অঞ্চলগুলোর মতো উত্তরবঙ্গের শহর বা গ্রামাঞ্চলেও দেশীয় স্কুল বা পাঠশালা ছিল। পাশাপাশি জলপাইগুড়িতে বসবাসরত ইংরেজ কর্মকর্তা, আইন ব্যবসায়ী, শহরের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ দেশীয় শিক্ষার জায়গায় ইংরেজি শিক্ষা স্থাপন ও প্রসারের চেষ্টা করছিলেন।৩ এই প্রসঙ্গে আরও উল্লেখ্য যে পরবর্তীতে ১৮৭১ সালের ডিস্ট্রিক্ট রোড সেস অ্যাক্ট ১০ (বি.সি)’ চালু হবার পর ১৮৭৮ সালে ‘রোড সেস বোর্ড’ গঠিত হয়। মহারাজ নৃপেন্দ্র নারায়ণের ‘আয়রন হাউস’-এ সেস বোর্ড, জেলা বোর্ড ও পৌরসভার অফিস গড়ে ওঠে। সেখানে ‘নৃপেন্দ্রনারায়ণ হল’-এ শুরু হয় পৌরসভার কাজ। মহারাজ নৃপেন্দ্র নারায়ণের সঙ্গে সদ্ভাব গড়ে ওঠে জগদিন্দ্রদেবের। জগদিন্দ্রদেব তখন জলপাইগুড়ি তথা বৈকুণ্ঠপুরের শাসক। তাঁর অনুমোদিত পৌরসভার ৫টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত পৌরসভার মানচিত্রটি তৈরি হয়েছিল।৪

কেতাব-ই’র ব্লগজিন বিভাগে লেখা পাঠাতে চান? মেল করুন blogzine.ketabe@gmail.com-এ। মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখুন ‘কেতাব-ই ব্লগজিনের জন্য লেখা’

জলপাইগুড়ি জেলা তথা শহরের অনুষঙ্গ বারংবার আমাকে নস্টালজিক করে তোলে। যদিও আমার জন্মস্থান জলপাইগুড়ি শহরেই, কিন্তু পৈত্রিক বাসস্থান ও বেড়ে ওঠা শহর ময়নাগুড়িতে। অবশ্য আমার তিন বছরের কলেজ জীবন (আনন্দ চন্দ্র কলেজ) সম্পূর্ণটাই কেটেছে জলপাইগুড়ি শহরেই। এই শহরের ইতিহাসকে বারংবার উজ্জ্বল করে তুলেছে বেশ কিছু দর্শনীয় স্থান। সেই দর্শনীয় স্থানগুলো সম্পর্কে চলুন জেনে নেওয়া যাক সংক্ষেপে। যথা― রাজবাড়ির সিংহ দুয়ার, বৈকুন্ঠপুর রাজপ্রাসাদ, রাজবাড়ির বৈকুন্ঠপুর মন্দির, রাজবাড়ির শিবমন্দির, মনসা মন্দির, রাজবাড়ির দিঘি, বিশ্ববাংলা ক্রীড়াঙ্গন, টাউন ক্লাব, আয়রন হাউস, তিস্তা উদ্যান, জুবিলি পার্ক, ইউরোপিয়ান ক্লাব, রেসকোর্সের অনাথ আশ্রম, কাবুলিওয়ালার মসজিদ, সেন্ট মাইকেল এন্ড অল অ্যাঞ্জেলস্ চার্চ, নয়াবস্তির চার্চ, শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রম, নবাববাড়ির মসজিদ (বাণী মসজিদ), নবাববাড়ির কবরখানা, মাসকলাইবাড়ি কালীমন্দির, দেবী চৌধুরানী কালী মন্দির, ভদ্রকালীবাড়ি, সোনাউল্লার মসজিদ (জুম্মা মসজিদ), যোগমায়া কালীবাড়ি, মদনমোহন মন্দির, সিনিয়ার সিটিজেন্স পার্ক, কান্তেশ্বরী কালীমন্দির, সৎসঙ্গ আশ্রম, পুরাতন মসজিদ, নেতাজি সংগ্রহশালা, শ্রী শ্রী পঞ্চমুন্ডি হনুমানমন্দির, শ্রীশ্রী জগন্নাথ গৌড়ীয় মঠ ও মন্দির, দিনবাজারের রক্ষাকালী মন্দির, সদাশিব মন্দির দিনবাজার, নয়াবস্তির বুদ্ধমন্দির, ভানুনগর কলোনির বৌদ্ধ গুম্ফা, সরোজেন্দ্রদেব রায়কত কলাকেন্দ্র প্রভৃতি অনেকগুলো জায়গাই। জলপাইগুড়ি জেলা তথা শহরের ইতিহাস অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী। তেমনই উল্লেখিত সমস্ত দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে অন্যতম আকর্ষণীয় হল দেবী চৌধুরানী কালী মন্দিরটি। তা কেন আকর্ষণীয়? দেবী চৌধুরানী ছিলেন বৈকুন্ঠপুরের ডাকাত রানি! কাহিনি অনুসারে এই দেবী চৌধুরানী পূর্বে প্রফুল্ল নামে পরিচিত ছিলেন। রংপুর জেলার (বর্তমানে বাংলাদেশে) মন্থনা এস্টেটের রানি ছিলেন। যখন তার স্বামী তাকে পরিত্যাগ করেন, তখন তিনি ভবানী পাঠকের বাড়িতে আশ্রয় নেন, যিনি এক ডাকাত দলের নেত্রী এবং রংপুরে সন্ন্যাসী আন্দোলনের অগ্রদূত ছিলেন। পরবর্তীকালে, দেবী চৌধুরানী এই দলে যোগ দেন এবং বৈকুণ্ঠপুরের ডাকাত রানি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। তিনি ছিলেন একজন উদার জমিদার মহিলা যিনি কৃষকদের অর্থ ও সম্পদ দান করতেন। কিংবদন্তি অনুসারে, তিনি তিস্তা ও করাল নদীর মধ্য দিয়ে তার বজরায় (বড়ো এবং বিলাসবহুল নৌকা) ভ্রমণ করতেন, রংপুর থেকে বৈকুণ্ঠপুর (বর্তমানে জলপাইগুড়ি জেলায়) ঘুরে বেড়াতেন।৫

তা এই জলপাইগুড়ি নামকরণ কীভাবে হল? প্রশ্নটা আমাদের মাথায় আসাটাই স্বাভাবিক। তবে এর নির্দিষ্ট কোনো উত্তর নেই। এই প্রসঙ্গে আবার উমেশ শর্মা তাঁর ‘জলপাইগুড়ির ইতিহাস’ বইতে জানিয়েছেন যে জলপাইগুড়ি নামটির উচ্চারণ বিদেশিদের মুখে ছিল ‘জেলেপিগাউড়ি’ বা ‘জেলপিগোড়ি’ জাতীয় কিছু। হতে পারে জলপাইগাছের গুঁড়ি থেকে জলপাইগুড়ি নামটা এসেছে। অনেকের মতই যে জলপাইগুড়ি শহরাঞ্চলে প্রচুর জলপাই গাছ দেখা যায় বলেই এই নাম, কিন্তু আরেকটা মতামত হল যে এই জনপদের সর্বাপেক্ষা প্রাচীন ও অনাদি লিঙ্গ ‘জল্পেশ’ থেকে এর নামকরণ হয়েছে। অবশ্য এই বিষয়টি আমার পূর্বের বেশ কিছু লেখাতেও বারংবার উল্লেখ করেছি। কিন্তু এটাও অনস্বীকার্য যে জলপাইগাছের সম্পর্কের কথা যেমন সমর্থন করেছেন ডঃ চারুচন্দ্র সান্যাল, তেমনি জল্পেশ থেকেই জলপাইগুড়ি নামটি উৎপত্তি বিষয়ক মতটিকে সমর্থন করেছেন ডঃ উপেন্দ্রনাথ বর্মন। সত্যি বলতে সম্পূর্ণরূপে কোনো মতকেই অস্বীকার করা যায় না। তবে আমার ব্যক্তিগতভাবে ডঃ উপেন্দ্রনাথ বর্মনের মতামতটিকে বিশেষ সমর্থনযোগ্য বলে মনে হয়।

মূলত মহকুমা গঠনের ৭৫ বছর পূর্বে ১৭৮৮ খ্রিস্টাব্দে জেমস রেনেল সাহেবের একটি স্মৃতিকথা ‘মেমোয়ার অফ আ ম্যাপ অফ হিন্দুস্তান: অর দা মগুল এম্পায়ার’-এ উল্লিখিত ‘জেলপিগোরি’ নামটি। আবার ১৮৪৮ খ্রিস্টাব্দে ২০শে জানুয়ারি দার্জিলিংয়ের সুপারিনটেডেন্ট এ. ক্যাম্বেল বৈকুণ্ঠপুরের রাজবাড়িতে পৌঁছে ওই রাজ্যের উত্তরাধিকার নির্বাচন সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে একটি প্রস্তাব ফোর্ট উইলিয়ামে স্থিত বাংলা সরকারের সেক্রেটারি এফ. জে. হ্যালিডেকে পাঠিয়েছিলেন। মূলত সেই পত্রেই উল্লিখিত ক্যাম্বেলের ক্যাম্প অফিস ছিল ‘জেলেপিগাউড়ি’।৬ এই প্রসঙ্গে আমি মনে করি অধ্যাপক প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্যের মতামতও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। তিনি একটি অন্য ভাবনার উল্লেখ করেছেন। যা আমার বেশ অভিনব বলে মনে হয়েছে। তিনি বলেছেন যে উত্তর বাংলার ভৌগোলিক নামকরণগুলি যেন তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে হয়। ‘শিলিগুড়ি’, ‘জলপাইগুড়ি’ প্রভৃতি নামগুলি তেলুগু ‘গাড্ডা’, কান্নাড়া ‘গাড্ডে’ হতে গৃহীত হয়েছে বলে ভাষাতত্ত্ববিদরা মনে করেন। এই শব্দগুলি নদীর কিনারা, ও জনপদ অর্থে ব্যবহৃত হত।৭

ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ক্ষেত্রেও জলপাইগুড়ি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিল। ঠিক সেরকমই কিছু গুরুত্বপূর্ণ জলপাইগুড়ির স্বাধীনতা সংগ্রামীর নাম হল―অজিত কুমার বসু, কাইচালু রায়, ডঃ অভয়চন্দ্র সরকার, কুমুদিনীকান্ত চক্রবর্তী, অমূল্যকুমার দে, কামদাপ্রসাদ বিশ্বাস, অঘোরনাথ সরকার, ক্ষিতীশচন্দ্র বোস, অমরেন্দ্রনাথ দত্ত, খগেন্দ্রনাথ দাশগুপ্ত, অনিলচন্দ্র চক্রবর্তী, খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক, সুবল বোস, শৈলেন্দ্রকৃষ্ণ নাগ, নীহারকণা বিশ্বাস, জ্যোতিষচন্দ্র পাল, শৈলরাণী বোস, অনিলকুমার রায়, কিরণবালা রায়, মুকুন্দলাল ঘোষ রায়, মাখনচন্দ্র দত্ত, যোগেন্দ্রনাথ দত্ত, নরেন্দ্রনাথ দত্ত, মোহিনীবালা ঘোষ, রেণুকা ঘোষ, গোপাল সরকার, অরুণা দাশগুপ্ত, গোপালচন্দ্র রায়, অনিলকুমার চক্রবর্তী, গোপেশ্বর দাস, অজিতকুমার চক্রবর্তী, গুরুদাস রায়, ডঃ অবনীমোহন সরকার, চন্দ্রদেব দাস (রায়), অমূল্যচরণ কুণ্ডু, ডঃ চারুচন্দ্র সান্যাল, অম্বিকাপ্রসাদ বক্সী, জগদীন্দ্রদেব রায়কত, ইন্দুভূষণ রায়, জীতেন্দ্রনাথ বোস, উপেন্দ্রনাথ বর্মণ, জ্যোতিষচন্দ্র সান্যাল, জীবনগতি রায়, উপেন্দ্রনাথ দাস প্রমুখরা।৮ এগুলো শুধুমাত্র জলপাইগুড়ির স্বাধীনতা সংগ্রামীদের নামই নয় এগুলো জলপাইগুড়ির অত্যন্ত গৌরবান্বিত ইতিহাসের প্রতিচ্ছবি। যা প্রত্যেক শতকে, প্রত্যেক দশকে নিজের সুস্পষ্ট ছাপ ফেলে গেছে।

জলপাইগুড়ির প্রাচীনত্বই জলপাইগুড়িকে বারংবার স্বতন্ত্র বানায়, শক্তিশালী বানায়। কিন্তু দুঃখের বিষয় এখনও বৃহত্তর ক্ষেত্রে জলপাইগুড়ি জেলার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সম্পর্কে অবগত নন বহু মানুষ। এমনকি পশ্চিমবঙ্গের বাইরের রাজ্যগুলোতেও জলপাইগুড়ি জেলাটি নাম সম্পর্কেও সেই অর্থে অবগত নন কেউই। কিন্তু আমাদের জলপাইগুড়ির ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি আজও বহমান। আশাবাদী আগামী প্রজন্মও এগিয়ে নিয়ে যাবে জলপাইগুড়িকে। আবিষ্কৃত হবে আরও বহু অনালোকিত ইতিহাস এই প্রাচীন জনপদের। প্রয়োজন শুধুমাত্র সঠিক প্রশাসনিক পদক্ষেপ এবং স্থানীয় ইতিহাস নিয়ে মানুষের মধ্যে জনসচেতনতা বৃদ্ধির। এই সুপ্রাচীন জনপদের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি দেশীয় তথা আন্তর্জাতিক স্তরে আরও অনেক ব্যাপ্তি লাভ করবে এই বিষয় নিয়ে আমি ভীষণরকম আশাবাদী।

সূত্রনির্দেশ :

১. সিনহা, সৌমদীপ্ত, ‘বৈচিত্র্যময় জেলা জলপাইগুড়ি: একটি অনুসন্ধান’, ‘তমোহন’, সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক বার্ষিক পত্রিকা, সম্পদনা: ঋষভ চক্রবর্ত্তী, তমোহন পাবলিশার্স, দ্বিতীয় বর্ষ, জানুয়ারি ২০২৫, পৃষ্ঠা ৪৩

২. মিত্র, রণজিৎ কুমার, ‘কথায় কথায় জলপাইগুড়ি’, এখন ডুয়ার্স, প্রথম সংস্করণ, নভেম্বর ২০১৯, পৃষ্ঠা ১৭

৩. মিত্র, রঞ্জিত কুমার, প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা ১৮

৪. শর্মা, উমেশ, ‘জলপাইগুড়ি রাজ রায়কত রাজবংশের রাজর্ষি’, গ্রন্থতীর্থ প্রকাশনী, প্রথম সংস্করণ, অক্টোবর ২০০৩, পৃষ্ঠা ৪৬

৫. রায়, শুভ্রজিৎ, ‘জলপাইগুড়িতে দেবী চৌধুরানী: মিথ, ইতিহাস এবং রহস্য’, ‘দা স্টেটসম্যান’, ওয়েবসংস্করণ, ১০ই মে ২০১৯

৬. শর্মা, উমেশ, ‘জলপাইগুড়ির ইতিহাস’, মিত্র ও ঘোষ পাবলিশার্স, প্রথম প্রকাশ, জানুয়ারি ২০১৮, পৃষ্ঠা ৩৭-৪০

৭. মিত্র, রঞ্জিত কুমার, প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা ৫১-৫২

৮. শর্মা, উমেশ, ‘ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে জলপাইগুড়ি, স্বতন্ত্র প্রকাশনী, প্রথম প্রকাশ, জানুয়ারি ২০১৪, পৃষ্ঠা ৫-১২


কেতাব-ই’র মুদ্রিত বই,ই-বই এবং ব্লগজিন বিভাগের লেখালিখির নিয়মিত খোঁজখবর পেতে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন


এই ব্লগজিনে প্রকাশিত সমস্ত লেখার বক্তব্য লেখকের নিজস্ব।

লেখক

ঋষভ চক্রবর্তী, জন্ম ১৮ ডিসেম্বর, ২০০৩ জলপাইগুড়ি শহরে। পরবর্তীতে পড়াশুনো ও বেড়ে ওঠা ময়নাগুড়ি শহরে। আনন্দ চন্দ্র কলেজের বাংলা সাম্মানিকে স্নাতকের পর বর্তমানে কাশী হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগের স্নাতকোত্তরে পাঠরত। ২০২৩ সালে আগস্ট মাসে অল ইন্ডিয়া রেডিও-আকাশবাণী প্রত্যুষায় সেরা লেখক সম্মানে ভূষিত হয়েছেন। কবিতা লেখার পাশাপাশি তিনি একজন প্রাবন্ধিক, সাহিত্যানুরাগী, সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক ‘তমোহন’ পত্রিকার মূখ্য সম্পাদক। বর্তমানে বিবিধ ক্ষুদ্র পত্রপত্রিকা, সংবাদপত্র ও বইয়ের পাশাপাশি জাতীয়স্তরের ও আন্তর্জাতিক জার্নালে নিয়মিত লেখালেখি করেন।

অন্যান্য লেখা