preloader
বাংলা বইয়ের e-ভুবন
Menu Categories Search Cart 0
Menu
Cart

Total 0 Items

☹ Your cart is empty

Sub Total:

$0

₹0

বিভাগ
নিরাশ্রয়, এক জীর্ণ সেতুর কামেল
কবিতা

নিরাশ্রয়, এক জীর্ণ সেতুর কামেল

রশীদ হারুণের এই কবিতাগুচ্ছ এক জটিল, স্বপ্নদগ্ধ দুনিয়ার জলরং—যেখানে ভাষা, দেহ, সময় ও স্মৃতি একে অপরের মধ্যে দ্রবীভূত। বিমূর্ত চিত্রকল্প, তীব্র ইন্দ্রিয়বোধ ও অস্তিত্বের অন্ধকার অন্বেষণ মিলিয়ে কবি নির্মাণ করেছেন এক নিরাশ্রয় অথচ গভীর মানবিক জগৎ, যেখানে প্রত্যেকটা শব্দই যেন ক্ষত, আলো এবং অনন্ত অনুসন্ধানের সহযাত্রী।


এখন গুটিয়ে নিচ্ছি মেঘ আর সন্ধ্যার মাদুর;
নিঃসঙ্গ গহীনে যাহা ব্যথা পরিবাহী—দূরান্বয়ী—
খোঁজের মার্বেল ছুড়ে গর্তের নিখোঁজ-মুখ তুলে
একাকী আয়না খুলি...
কোথায় লণ্ঠন ঝুলিয়েছ!
রাত্রির রম্বস হাঁটে শিরাময় জ্যামিতি পৃষ্ঠায়—
কালো শুভেচ্ছার ঘেউ আর অন্ধ-অন্ধ দশদিক!
ভয়—স্থিরতম খাদ ধেয়ে আসে রাত্রির খাঁড়িতে—
সারি-সারি ইচ্ছেলাশ নিউরনে পচে-গলে-ভাসে,
বিনাশপোকারা নাচে।
বিমর্ষ বার্তার দুস্থ-চোখ
মর্মকোণে দৃশ্য রচে! এসব আত্মীয় মন্দবাসি।
নিঃস্ব-ভিড় নীল হয়ে জ্বালে মুকুরের দেশলাই
মনমোমের সুতোয়।
পুড়িয়ে আয়ুর ঘামসুতো
অজস্র উড়াল দিচ্ছি দগ্ধ-মোমখেত সাথে নিয়ে,
দূরে, দিকচিহ্নহীন—আরও বেশি রাত্রির ভেতর।


পারাপার—দীর্ঘ গজলের স্বাদ এই চোখে গাঁথা:
চলে যাওয়া নৌকো থামে—হলুদ কদম পাতা পড়ে
ধূসর ছইয়ের পর; ঠাণ্ডা ও নিঝুম কোলাহলে—
সহচর, হৃদে নামে গৃহঘেষা রাধা-নদীজল।
নিঃসঙ্গ কচুরিপানা স্নিগ্ধ গর্ভফুল বুকে বেঁধে
ঝড় আর উচ্চতর মেধা নিয়ে চক্রে-চক্রে ভাসে—
মুদে আসে শিরা ও শ্রী। তরঙ্গের চূড়া গড়িয়েছে—
ভাটির মৃত্তিকা ডাকে শস্যের শিল্পকৃত্যের মাঠে।
বায়ুজন্ম নদীতীরে সময় অনন্ত তলোয়ার!
নিজমুণ্ড কেটে-কেটে বিলি করে বিরহ আমিষ!
আর দ্যাখো রক্তবোধে বৃষ্টির ময়ূর—দেহধাঁধা!
রাতের তাচ্ছিল্য ঠেলে উঠে আসে মেঘধোঁয়া চাঁদ,
গানের অতল—চোখ, ঝরে-ঝরে তলিয়ে ধরেছে
হলুদ পাতার কবি—জল আর জীবনের বিশ্বে—


মৃত পরিদের ভাষা দুধ-জিহ্বার কলমে লেখো :
উদোম বুকের শব্দ নিখিল জড়িয়ে উঠে আসে
স্তনঘন বিশ্ববোধে; স্বাধীনতা কোথায় দেখেছ!
সকল মাধুর্য দ্রুত জন্ম নেয় আশ্চর্য প্রহরে—
অপ্রস্তুতে—অন্যচোখে—কুহকের কার্নিশে কার্নিশে।
নিরীহ বিমর্ষ পাখি কুয়োগাছে হঠাৎ ডেকেছে—
পাতাগুলো স্থির কাঁপে। চোখ-চকে দৃশ্যলেখা-ক্ষণ
পালটে যেতে-যেতে আরও জ্ঞানী ও কুয়াশামগ্ন হয়।
শোনো, কাদামাটি-কথা—প্রশ্ন-গিরগিটি—জন্মচুলো—
ভাষার বিরহে পোড়ে কবি ও শিল্পীর হাহাকার।
জীবন ক্লান্তির কলা—মৃত্যুই প্রকৃত উড়ালের গান—
শব্দের সূর্যমুখীর চেয়েও যা নিরব সাংকেতিক।
সন্ধ্যাযাত্রী—গল্প, বসো—অভিজ্ঞতা এক নিদ্রানৌকা—
ভাসো, দেহ-শূন্যতায়— মঞ্চের গোলাপঘ্রাণে, একা


নিঃস্ব—তেতো জ্বরফণা জ্বলে যাচ্ছে চুলোর বাগানে।
ব্যথা ও চোখের সীমা সমদূরত্বে আগুন ভাঁজে
ক্ষয়খোলায়। শব্দ ও তাপের মাতাল বল্‌কে ওঠে
মন-মাজারে। এখানে, ফণাগুচ্ছের ঝড়ের বাজে
হৃদয় ঘুলঘুলি পোড়ে : দ্যাখো, হৃদছাই মিশে যাচ্ছে
হা-বিশ্বে, গোধূলি জুড়ে। আততায়ীর মচ্ছব ছাড়া
নতুন জনম কই! লালা-ঝরা জলবায়ু-জিভ
হৃদয় লেহন করে ফেলে দিচ্ছে অসীমের ঘাটে!
আমি, দুঃখ-দেখা-কাচ, শুধু মুছে যাচ্ছি অশ্রুকাচ!
যা কিছু অর্জিত—দৃশ্য ও দৃশ্যান্তরের সাপখেলা!
টেরাকোটা ক্ষতে লেখা বিহ্বল ওভারব্রিজ! ভাষা—
যেতে-যেতে লিখে রাখি ঘড়ি ও গমন সম্পর্কিত
নিরাশ্রয় ঋতুকাল। গান আসে কুয়াশায় ভেসে—
দুঃখের গানের মতো মধুময় কিছু নয়, ভাবি—


পাগল ছুটেছে দ্যাখো ভাষাবীজ উড়িয়ে উড়িয়ে—
এই কণ্ঠ, শব্দজমি কোথায় পেয়েছে, জেনেছে সে?
ভাষার বিড়ালমুখ মিউমিউ করে, ও পাগল—
শিরা ও কণ্ঠ-বড়শি তুলেছে কি অর্থের শব্দমাছ!
না-শব্দের-কথাগুলো গুম থাকে অদৃশ্যে, নির্জনে,
ধ্বনিপাতার আড়ালে। আয়ূর মর্মর শুধু বাজে।
কতদূর প্রাসঙ্গিক বৃষ্টিছাড়া মেঘের নিয়তি,
আর, শব্দ-কশেরুকা কতটুকু ধরে এ-জীবনে?
গর্ভছুট কান্না রেখে, ও পাগল, কোথায় চলেছ!
থামো, প্রজ্ঞা-প্যারাসুট গুটিয়ে মাটির মর্মে নামো—
বাক্যবিধি রেখে যাও আমাদের শিশুদের কাছে;
ভাটিতে, অশ্রুপুকুরে দ্যাখো বৃদ্ধা-বিকেল নেমেছে—
ফেরার কলস হাতে—দূরে, অন্যদের দেশে-দেশে—
মানুষ শিখেছে ব্যথা—তুমি ফিরো তোমাতে, পাগল


অজস্র দৃশ্যের ডিম তা দিচ্ছে অজস্র দৃশ্যমাতা।
ভেসে ওঠে ওমবীথি—ঝাঁক-ঝাঁক জীবনের হাওয়া—
নিঃশব্দ-গণিত গৃহ জেগে উঠছে দৃশ্যছানা নিয়ে—
আরও ডিম ফুটিতেছে আকাঙ্ক্ষার বোধের বাসায়।
ঢেউদহের মাথায় কী করো হে প্রণয় বিদ্যুৎ!
কে যে মরে গুপ্তজলে বৃষ্টি-বারান্দার গ্রিল ধরে!
ওড়ো তবে বায়ুযান দেহপাখির ফিলোসফার—
জ্বলন্ত সোনাশিখার হলুদার্থ আঁচলের ডানা!
তুমি, সর্বদাই শিশু—দৃশ্য-ভরতি উষ্ণ দুধ খাও।
চিন্তারা ক্যামেরাজাত, দ্যাখো, চোখ ধরে দৃশ্যবাক্য।
হৃদয় বস্তুত কবি মর্সিয়া-চাঁদচুলোয় জ্বলে,
পুড়ে যায় জন্মদাগে—শব্দে-শব্দে ভেজে হৃৎপিণ্ড!
এত আছে, তবু নেই—দৃশ্যবোধের রোস্টারে চেপে
উড়ে যাচ্ছে দুখি চোখ—হৃদলিপ্ত জোনাকির শ্রম...


বৃশ্চিকশাসিত স্তনে মুখ রাখা ছাড়া মুক্তি নেই।
এই ভেবে, সব এঁটো উঠে আসে পচাবাসি গন্ধে—
সকল সুন্দরে গাঁথা আগ্রাসন ও রাত্রি-বিকাশ!
নিরর্থের কথাকার সৃজন সংকেতে গর্ত ঢালে—
জন্মহীন সমারোহে নাড়ি নয়, দেহ জ্বলে; ভোগ,
অমোঘ এ-শব্দ ছাড়া নতজানুযুক্ত কিছু নেই।
রাত্রিরা উপচে ওঠে—আলো জ্বলে গণিকার ঘরে—
নিঃস্বতরা যোনিহাত দেহ-কানকোর জানালা নাড়ছে!
তোমাকে উচ্ছ্বাস দিচ্ছে লবণ-রক্তের তন্তুমদ:
গোপন বাঘের দাঁত হেসে দিচ্ছে হরিণডাঙায়—
তেড়েফুঁড়ে লাশ হয় রক্তবীজ, সবুজ অতিথি,
প্রেম ও বৃষ্টিময়ূর। যখন বিষাদ জাগে, দীর্ঘ
রাত্রির দিগন্ত ফুঁড়ে নক্ষত্রের ক্লান্ত পাতা ঝরে
ব্যথাগর্তের কুহকে। রাত্রির দরজা খোলা, যাও...

কেতাব-ই’র ব্লগজিন বিভাগে লেখা পাঠাতে চান? মেল করুন blogzine.ketabe@gmail.com-এ। মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখুন ‘কেতাব-ই ব্লগজিনের জন্য লেখা’


পানমৌরির শরীরে প্রেম ছিল কিংবা আরও বেশি।
যৌনলিখিত আর্টিস্ট আকাশে এঁকেছে রাত্রিচাঁদ!
উল্লাসের নুনমোম গলতে-গলতে ভেসে যাচ্ছে...
দ্যাখো, প্রজাপতি ওড়ে—ওড়ে ঘাম, নীল বাঘথাবা,
বিহ্বল রক্তের রেণু: ঘর্মাক্ত-কমলা তুমি, গাছে,
নীলঘুমের গোলক হইচই-শূন্যে আড়াল রেখেছ।
পানমৌরি, ভার তোলো—বেদিশ বেহেস্তে ডুবে-ডুবে
ঠোঁটের থালায় মাপি ব্যাখ্যাতীত ওজনের শুভ্র।
দেহজলে পাতা ভাসে অথবা নীরবে ভেসেছিল;
এরকম কামপাতা পুনঃপুন উলটেপালটে দেখি—
ঘুরপোকার তাওয়াফ আর তলপেটের আজান;
দণ্ডনীয় নেশা দেহবাগে পুষ্প দিয়াছে ঢালিয়া!
পরমাণু কাঁদে, কাঁদে স্রোত, ঢেউ-নম্র-নাচদল—
বিস্ময় কোথায় তবে! পানমৌরি, একা—দুই হাঁস


উম্মাদলিখন, নীল—ধূলি গেরিলার আড্ডাপটু—
রুদ্রচলা চতুর্পাশ্বে ছড়িয়ে রেখেছি মায়া-লালা,
তোমার সোনার পুঁথি, কুয়াশার জল-সাইকেল।
দ্যাখো, লালট্রেন যায় বিরহ ঘড়ির ঘন্টা বেঁধে।
চন্দ্রবোড়ার ছোবল এই শাঁই-শাঁই ট্রেনরাত্রি!
একখণ্ড টেলিপ্যাথি, তুমি, দেহযুক্তি দাঁড়িয়েছ
হৃদালাপ দৃশ্যপটে! পথ, সুপ্তবীজ, বোনা থাকে
চোখডালের বাগানে! ঘুমহীন আখের আয়াত
কারা পড়ে অন্ধকারে! খসখসে পাতা কান্না কাটে।
করাত কাঁটার ক্রোধ—প্রণয়ের বিয়োগ-বাহিনী
তব্দফোটা মনে-মনে! উন্মাদলিখন, বৈরীবাজ
খলসেনাদের মুখে ঠেসে দাও শব্দদাঁত, দ্যাখো—
চোখ, আঙুলের মতো উড়ন্ত কি-বোর্ড; লিখে যাচ্ছে
ইচ্ছনীল, দৃশ্যপৃষ্ঠা—শিশিরের না-ঝরা প্রার্থনা

১০
ভিখিরি বসেছে পাকুড়ের তলে আমি তার মতো
আঙুলে মুড়িয়ে খাই নুন, ঝোলভাত, বেশি জল।
যখন দুপুর আসে ঝিমানো আয়ুর তলে বসি—
ভাবি, কত ঈর্ষাতুর সময় নিয়েছি গিলে চোখে,
মোমআলুর চরিত্রে। খোলা আছে সকল দোকান।
আমি তো বিনেপয়সা! বরফ জলের ধাবমান
হাত থেকে ফিরে আসি নিজের হাতের তৈরি হাতে!
কিছু নেই। কেন নেই! ...রাত-ক্লান্ত পান্থশালা যেন,
ঝিম মেরে বসে আছি বাংলাদেশে, ঘন অন্ধকারে।
আমি কি বাউলা জাত! কথার সাবানে নোংরা তুলি!
ঝরা আর লুটময় স্মৃতি ছাড়া কী আছে আমার?
রাত্রিমতো বেলা যায়... আয়ুপাত্রে জমে চাল-ঘাম—
ফুটিয়ে ফুটিয়ে তুলি স্নায়ুজল, স্মৃতিভস্ম, আর,
হৃদয়ে মুড়িয়ে খাই ক্ষতচিহ্ন, ক্লান্ত-ক্রোধ, রাত্রি...

১১
জলের রুমাল ওড়ে...  নদী থেকে কতদূর তুমি
তৈরি করো বীজভূমি—নিংড়ে-রোয়া সবুজ বাগান;
একান্নবর্তী সময় বাঁচিয়ে রেখেছে সব সত্তা—
তবু কী ভীষণ একা ও একক স্নায়ুতন্ত্র! তুমি,
মানুষের জন্যে থাকো আর দগ্ধ হতে-হতে বাঁচো
আধখোলা উৎস রেখে। গল্পে গল্প জেগে থাকে, দ্যাখো,
অস্থিরতা এক ছুরি—জ্যান্ত-সাদা নির্ঘুম প্রকার
খুন করে অবিরত আমিষ-অর্জিত প্রজাপতি।
জেগে আছ—ভেঙে যাচ্ছে পুস্তকঘর, সুস্থ-জানালা;
তোমার হ্যাঙার থেকে হাজার রঙের রক্ত ঝরে—
সিঁড়ি আর ছাইদানি খোঁজে নীল গোপন কুঠুরি।
একটি শীতের চাঁদ মাকড়সার পায়ের চোখে
বসেছে বুকের পর! মৃত্তিকা জলবাহিত করো—
এখানে জন্মেছে মায়া—ধান-উপলব্ধির প্রহর...

১২
মানুষ কি হৃদপিণ্ডে জ্বরদগ্ধ! পোড়ে বনভূমি—
আদিম শব্দটি কেন পিছিয়ে পড়ার শর্ত লেখে?
দার্শনিক গ্রন্থগুলি কারা যে লিখছে, এই জেনে,
ভাবালুতা গ্রাস করে—আরও বেশি প্রকৃতি কোথায়!
হরিণতাড়িত ফাঁদ আর কর্পোরেট-ধূর্তচাঁদে
জড়িয়ে নিয়েছো রং—ধোঁয়াশার গোলপর্দা:
দ্যাখো, দুস্থডানা ওড়ে... হাহাশ্বাসের কবিতা ওড়ে...
রাত্রিদের হামাগুড়ি মেধাকর্তনের ছুরি হাতে
অন্ধকার ইরেজারে মুছে দিচ্ছে অন্তর্গত চোখ।
তোমার কবিতাগুলি আরও বেশি কাতর-গণিকা—
শব্দ, সুরগাথা—দুখি। একরাশ নিঃশব্দ নিরাশা
তোমার টেবিলে রাখা—শুনছ কি অদৃশ্য বিলাপ!
খুনচেয়ারের শরীর উঁকি দিচ্ছে সমূহ সংকেতে—
‘মানুষেরা ড্রামাবাজ’—বাকি সব নিঃশর্ত প্রকৃতি!

১৩
সামলে রাখো বকপুঞ্জ। মশলার পাড়ায় চুলো জ্বলে।
তোমার ধীমান দেহ চাষময় চোখের চুলোয়
পুড়ে-পুড়ে যাচ্ছে। গলে যাচ্ছে দুটি মাংসচাঁদ।
কোথায় নামিয়ে রাখো ঘ্রাণ, স্পর্শহীন সাদাহিংসা,
ঊরুদের অভিজ্ঞতা? আয়ু এক বুর্জোয়া-বাগান—
দরোজায় এসে-এসে ফিরে যায় অতলের দিকে...
সন্ধ্যা। ...নাচে ঝাউগাছ। ভূগোল। খেলছে তৃষ্ণাতাস।
হৃদ-হাওয়ার বেহাগে নেচে ওঠে চোখের হৃদয়!
দেহজমি, শয়তান—যাচ্ছে দেহগত সেজদায়!
কোথায় অরণ্যলীলা? স্বর্গচ্যুত কাম-সর্পরাশি?
শ্বাসরুদ্ধকর নাগ-মোচড়ের বাজু ঘোরে মনে!
জাগো, নগ্ন চিৎকারের ছুরি-শিল্প, উষ্ণ আততায়ী!
গর্ভগাথার মরমে পড়ো দেহশ্বাস, রক্তবই,
প্রতিশ্রুতির মল্লার আর ধ্বস্ত পিতাদের চোখ

১৪
জীবন চিন্তিত এক নরককুণ্ড তোমাকে পায়—
তুমি, তৃষ্ণা ফেটে ঢুকে পড়ো লাল চুল্লির মোকামে;
দ্যাখো, জন্মখরা, তৃষ্ণা ও ক্রোধসিঁড়ির হল্লামাঠ...
কোথায় মাতৃসদন! নম্র-ধ্বনি! নরম নীলিমা!
মানুষ মূলত ডোম নিয়ত নিজের লাশ কাটে!
কাটে স্বপ্নলেখা, গান, বর্ষাপীড়িত সময়, শীত,
নিদ্রার ঐশ্বর্য, স্মৃতি...
লেখার টেবিল থেকে তুমি
চলে যাচ্ছ রুগ্‌ণগৃহে। ঘিরে আছে ঠাণ্ডা অভিজ্ঞতা।
কিছু নিস্তব্ধতা কেটে কলমের মধ্যে ঢুকিয়েছ!
নারী আর ভেজা শব্দ নেড়ে-ছেড়ে কবিতা বানাচ্ছ!
মেঘ হচ্ছে, মদ হচ্ছে,
যৌন-যৌন তোপধ্বনি হচ্ছে—
দ্যাখো, স্বপ্ন স্বপ্নহীন; লাফরত সাদা খরগোশ
চলে যাচ্ছে ছুরি-তলে। জলসত্র চোখে দেখে যাচ্ছে
জলছুরির ম্যাজিক...
লালা, রক্তে ভাসছে সময়...


কেতাব-ই’র মুদ্রিত বই,ই-বই এবং ব্লগজিন বিভাগের লেখালিখির নিয়মিত খোঁজখবর পেতে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন


এই ব্লগজিনে প্রকাশিত সমস্ত লেখার বক্তব্য লেখকের নিজস্ব।

লেখক

বসবাস খুলনা, বাংলাদেশ। লেখালেখির সূত্রপাত নব্বইয়ের শেষার্ধ্ব থেকে। মাঝে লম্বা বিরতি। ২০১৯ থেকে আবার লিখছেন। লিটলম্যাগে লিখতে ভালোবাসেন। কবিতাই লেখেন। সংখ্যায় কম। দীর্ঘ বিরতির পর নতুনভাবে কবিতা লেখা শুরু করেছেন। নিরিবিলি থাকতে পছন্দ করেন। একটি মাত্র কাব্যগ্রন্থ— কথানহর।

অন্যান্য লেখা