ঘর, ব্যথা, বিপ্লব—মানবতার প্রতিটি স্তরকে ছুঁয়ে যায় আপন রায়ের এই কবিতাগুচ্ছ। দেয়াল ভাঙার আহ্বান, শিকল ছিন্ন করার স্বপ্ন, আর লাশের নীরব প্রতিবাদ—সব মিলিয়ে এই কবিতাগুলো আমাদের সময়ের জ্বালা ও সম্ভাবনার গভীর ভাষ্য হয়ে ওঠে।
ঘর
কিছু দেয়াল নিজেকেই সরাতে হয়
ঘৃণার চোখ না সরালে ফুটে ওঠে না ভালোবাসার চোখ
ডানা বেঁধে দিলে ‘পাখি’ বিশালতা হারায়
বন্দুকের নিচে বুলেটের পাহারায় ঘুমিয়ে পড়ছে ফুল
স্বপ্নগুলো থেঁতলে যাচ্ছে
ঘরের সম্ভাবনাকে হত্যা করে
দেয়াল
ব্যথার অরণ্যে তুমি
ব্যথার অরণ্যে তুমি ফুটে থাকা ফুল
নিরুপায়, হেঁটে যাওয়া সে কার ভুল
একটা পথ নিজের ভেতরে
কেউই হয়তো জানে না
তুমি ক্রমাগত ডুবছ গভীরে
ভ্রান্তি, ধুলো, আলো-আঁধার পেরিয়ে
স্বপ্ন, বেদনা, হাহাকার জড়িয়ে—
আয়নায় ভেঙে যাওয়া মুখ
একান্তে
আমাদের সবার অসুখ
একটা পথ গন্তব্য ছাড়িয়ে
ডুবে যাওয়া, ভেসে ওঠা
ফুলের সন্ধানে
পৃথিবীর সমস্ত নগরে
ঘনিয়ে আসুক
কংক্রিটে সূক্ষ্ম ফাটল…
লাশ
লাশ জানে না সে লাশ
তোমরা জানো
আর বলে ওঠো তার নাম
লাশ জানে না সে লাশ
তোমরা জানো
আর প্রচার করো তার পেশা
লাশ জানে না সে লাশ
তোমরা জানো
আর নির্ণয় করো তার শ্রেণি
লাশ জানে না সে লাশ
তোমরা জানো
আর টেনে বের করো তার ধর্ম
লাশ জানে না সে লাশ
তোমরা জানো
আর দেখো তার রক্ত লাল
লাশ জানে না রক্ত কী
তোমরা জানো রক্তই রাজনীতি-সিংহাসনের ভিত্তি
লাশ জানত না সে লাশ হবে
জানলে—
মুখ বুজে রক্তই খেয়ে নিত কোনো দাবি না জানিয়ে
কেতাব-ই’র ব্লগজিন বিভাগে লেখা পাঠাতে চান? মেল করুন blogzine.ketabe@gmail.com-এ। মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখুন ‘কেতাব-ই ব্লগজিনের জন্য লেখা’।
বিপ্লব
১
সিংহাসন? না কি ফাঁসিকাঠ?
সারারাত ঘুমাতে পারে না বিপ্লব।
২
দু-য়ের একটিও না হলে—আগামীকাল
অথবা পরশু, ঘুরতে হবে এক পকেট
থেকে অন্য পকেটে
৩
এবং শেষপর্যন্ত
নিজের বলতে বিপ্লবের সত্যিই কিছু থাকে না
৪
ক্ষীণ গলায় হয়তো এটুকুই বলে যায়—
এপিটাফে লিখে দিয়ো, ‘বিপ্লব মরে না...’
দেয়াল
দেয়াল তুলে দেয়া কবিতার জন্য শঙ্কার
দেয়াল ভাঙতে না পারা কবিতার জন্য শঙ্কার
নীরবতাও গান
গানও আঘাত
দেয়াল ধসে যেতেই জন্মায় দেয়াল-বিষয়ক স্মৃতি
স্মৃতি তাড়া করতে করতে দাঁড় করায় স্মৃতিশূন্যতায়
শূন্যতাও দেয়াল
ভাঙতে পারলেই দেখা হবে আমাদের
কেতাব-ই’র মুদ্রিত বই,ই-বই এবং ব্লগজিন বিভাগের লেখালিখির নিয়মিত খোঁজখবর পেতে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন।
এই ব্লগজিনে প্রকাশিত সমস্ত লেখার বক্তব্য লেখকের নিজস্ব।