এই কবিতাগুচ্ছ আত্মকথন, রূপান্তর, অনুপস্থিতি ও পুনরাগমনের জটিল সৌন্দর্যকে নতুন ভাষায় সাজায়। দাহ্য সাদা শূন্যতা থেকে ম্যাগনোলিয়া গাছের জন্ম, ফুলের সমাজে পথ হারানো থেকে বর্ষাভেজা প্রত্যাবর্তন—প্রতিটি কবিতা ভেঙে পড়ে আবার গড়ে ওঠে মানবমনের দুরূহ-সুন্দর নকশা।
মুক্তি
চাবিটি ঘোরাই আর অনর্গল কান্না মুক্ত করি
যেন, সমুদ্রে দরজা দেওয়া ছিল
এরপর কে কী দ্যাখে জানা নেই—
সব সাদা, সব দাহ্য, সমস্ত নতুন
ওইদিকে
ওইদিকে খেলা হচ্ছে, ওইদিকে পৃথিবী অস্থির
আত্মকথনের দিকে এসময় টেনে নেওয়া পাপ
রাতগভীর, বনমায়া, মুনরাইজ হল
একটিই রাতের মধ্যে সহস্ররূপ ভাঙাগড়া হল
আমার মানুষমূর্তি ঝরে গিয়ে গজিয়ে উঠল একটি ম্যাগনোলিয়া গাছ
হাত-পা থামল, ক্রিয়া থামল, উপমাভাষায় শুধু ভরে উঠল দুনিয়া আবার
ফুল ফোটা শুরু হয়নি, তাই আমি দ্বিচারী হলাম
কেতাব-ই’র ব্লগজিন বিভাগে লেখা পাঠাতে চান? মেল করুন blogzine.ketabe@gmail.com-এ। মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখুন ‘কেতাব-ই ব্লগজিনের জন্য লেখা’।
ফুলের সমাজে
হাত ফসকে পড়ে গেছি ফুলের সমাজে
যাচ্ছিলাম তো নিশ্চয়ই অন্য কোথাও, আর এখন দেখো
আসতে-যেতে কী কী ভুল, তার কোনো আগাপাশতলাটুকু নেই
তারই মাঝে রান্না করে তিন বোন, বিকটদশনা
কুয়াশার মধ্যে তারা দুরাশা জ্বালায়
ভালো হোক মন্দ হোক আজ আমার কিছু একটা হোক
এসেই পড়েছি যদি, কিছু কিছু মাথামুণ্ডু খাই
সঙ্গে খাই কিছুদিন অভিধান বহির্ভুত হাওয়া
যদিও শুনবে না, তবু শোনো—
ফুলের সমাজে আমি বেশিদিন মোটে থাকব না
যদি ফিরে আসো
যদি ফিরে আসো তুমি দু-এক সরল গ্রাম বসবাস করে
কথা দিচ্ছি ভুলে যাব পুরোনো অন্যায়
গ্রামধোওয়া পথ, তাকে ভালোবাসে গ্রামেরই শিশির
দৃঢ়তাজটিল মুঠি খুলে স্নান করতে নেমে যায়
যদি তুমি ঘনবর্ষা পার হয়ে ফিরে আসো মনসুনপীড়িত
মাত্রাজনিত ভুল, কথা দিচ্ছি, আমল দেব না
কষ্ট করে হাঁটা পথ, ডুকরে ওঠা অবিকল্প পথ
উপমাপাথর, ফোসকা, কত না চালাকিগুল্ম, মনোহর কাঁটা
পার হয়ে আসাই জয়, শান্ত হয়ে বেদনার পল্লবে তাকানো মানে জয়
ছবি থেকে কোলাহল মুছে ফেললে তবে ভালোবাসা
কেন যে অলাতচক্রে আমাদের কবি ডুবে যায়!
কেতাব-ই’র মুদ্রিত বই,ই-বই এবং ব্লগজিন বিভাগের লেখালিখির নিয়মিত খোঁজখবর পেতে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন।
এই ব্লগজিনে প্রকাশিত সমস্ত লেখার বক্তব্য লেখকের নিজস্ব।